360 x 130 ad code [Sitewide - Site Header]

খাগড়াছড়ির পথে ও পাহাড়ে

Share via email

সাইফুল ইসলাম শিপু:

fg

 

সফরের ঘণ্টাধ্বনি বুঝি আবারও বাজল! খাগড়াছড়ির পাহাড়ের আহ্বান মনে উঁকি দিচ্ছিলো কয়েক দিন ধরেই। সেই ডাকে সাড়া না দেয়ার উপায় আমাদের নেই। তাই আমরা, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওগ্রাফী এণ্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা, আবারও বেরিয়ে গেলাম পাহাড়ের টানে, সবুজের টানে, মেঘের টানে। রাত ০৯:২০ এর ট্রেন কয়টায় ছাড়বে? আমাদের দেশে ট্রেনের ক্ষেত্রে এ প্রশ্ন করাই যায়। কিন্তু না! ১১ মে ২০১৫ তারিখের সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস দেরি করেনি। বিপুল উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। গন্তব্য ফেনী। আমাদের ২১ জনের সিট পড়েছিল বিক্ষিপ্তভাবে, বগির এখানে-সেখানে। আমরা একে-ওকে অনুরোধ করে সিট বদল করে এক জায়গায় নিয়ে আসলাম। ভ্রমনে যদি সবাই একসাথে না থাকলাম, তাহলে মজাটা কোথায়?

 

ট্রেন চলছে বিকট শব্দ উৎপন্ন করে। এর মাঝেও আমাদের আনন্দের বিরাম নেই। পুরো বগি সরগরম করে তুললাম। ভার্সিটি পড়ুয়া একঝাঁক শিক্ষার্থীর প্রাণের উচ্ছ্বাস ট্রেনযাত্রীরা টের পেল ভালোই। আমাদের আড্ডায়, মুহুর্মুহু ছবি তোলার ক্লিক ক্লিক শব্দে, ঘুমিয়ে পড়া বন্ধুদের জাগিয়ে দেয়ার খুনসুটিতে ট্রেনের কামড়া জমজমাট করে রাখলাম। ধীরে ধীরে রাত শেষে দিনের আগমন জানান দিচ্ছিল। রেলের জানালা দিয়ে মৃয়মান আঁধারের পর্দা কেটে ভোর হওয়ার দৃশ্য সত্যিই দারুন। ফেনী পৌছলাম ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ। প্লাটফর্মে কিছু লোক ঘুমিয়ে আছে। চায়ের দোকান খুলেছে। কলা-রুটি ও চায়ে জলখাবার সারলাম প্রায় জনশূন্য প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে। এবারের গন্তব্য খাগড়াছড়ি।

 

বাস ছুটে যাচ্ছে খাগড়াছড়ির পানে। সারা রাত ট্রেনে ঘুম হয়নি। তাতে কী? আনন্দের উপলক্ষ তো আর প্রতিদিন আসে না। তাই ঘুম তাড়িয়ে চললো গানের সুরতরঙ্গ। কত সকাল ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিয়েছি; আর আজকের সকাল ধরা দিল ভিন্নরূপে। কিন্তু এই উচ্ছ্বাসও বুঝি বেশিক্ষণ থাকার নয়। সাড়ে সাতটা নাগাদ আমরা অনেকেই বাসে ঘুমিয়ে পড়েছি। যখন ঘুম ভাঙল তখন খাগড়াছড়ির আঁকাবাঁকা উঁচুনিচু পাহাড়ী রাস্তায় আমাদের বাস ছুটে চলছে। ভ্রমনের রোমাঞ্চের শুরুটা হয়েই গেল! ক্রমশ উচু হতে থাকা রাস্তা আবার নেমে গেল নিচে, আর ডানের বা বামের গভীর খাঁদ কলিজা কাঁপিয়ে দিল। এই রোমাঞ্চের মাঝেও আমার মনে চিন্তার উদয় হলো। একপাশের গভীর খাঁদের একেবারে তলাতে দেখলাম একটুখানি সমতল জমি। আর সেখানে চাষ হয়েছে ধান। এই পাহাড়ি এলাকায় মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম যে কত কঠিন, কিছুটা আঁচ করতে পারলাম। কিছুক্ষণ পরেই চিন্তার মোড় ঘুরালাম। রোমাঞ্চ নিতে এসেছি, আপাতত রোমাঞ্চ নিয়েই থাকা যাক!

 

সকাল দশটা নাগাদ বাস থেকে নামলাম খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের সামনে। বিশাল মোটেল, ছিমছাম গোছানো পরিবেশ। রুমে উঠে হাতমুখ ধুয়ে বের হলাম খাবারের খোঁজে। পেটে তখন আগুন জ্বলছে। আর বেদনার শুরু এখানেই হলো। মোটেল থেকে খাগড়াছড়ি শহর চার কিলোমিটার দূরে। কাছে কোন রেস্টুরেন্ট নেই। ফলে কিছুদূর গিয়ে একটি দোকানে বসে সিঙ্গারা, পেয়াজু খেয়ে ক্ষুধা মেটানোর চেষ্টা করলাম। পার্বত্য চট্টগ্রামে বেড়াতে আসার যন্ত্রণা এটাই। এর আগে রাঙ্গামাটিতে গিয়েও ভালো রেস্টুরেন্টের খোঁজ পাইনি। মোটেলে ফিরে এসে গোসল করে দিলাম ঘুম। অনেক দিন পড়ে এত সহজে ঘুম এল। ঘুম ভাঙল দুপুর দেড়টা নাগাদ। আবারও বেরুলাম সদলবলে। দুপুরের খাবারের খোঁজে। আমাদের বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম থেকে আমাদের সাথে যোগ দিয়েছে। আমরা খেতে গেলাম ইজোড় রেস্টুরেন্টে। মারমাদের দ্বারা চালিত রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টের ডেকোরেশনে স্থানীয় ঐতিহ্যের ব্যবহার করা হয়েছে। খাবারের মেন্যু ও রান্নার ধরণেও উপজাতীয় সংস্কৃতির ছাপ। তবে খাবারের দাম চোখে পড়ার মত বেশী। কিন্তু সেদিকে তাকানোর ফুরসত নেই। পেটের তখন ত্রাহি অবস্থা।

 

হাঁটছি এল.জি.ই.ডি অফিসের দিকে। বন্ধু তোহার বাবার বন্ধু, আমাদের সবার আংকেল মি. জীবন রোয়াজার অফিসের উদ্দেশে। তিনি খাগড়াছড়ি এল.জি.ই.ডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী। অসাধারণ অমায়িক সদালাপী মানুষ। আমাদের আতিথেয়তা দেয়ার জন্য আয়োজনের কমতি রাখেননি। রাতের খাবারের নিমন্ত্রণ দিলেন। আর বিকেলটা ঘুরে বেড়ানোর জন্য দুটি গাড়ী। প্রথমে গেলাম নিউজিল্যান্ড নামক জায়গায়। সেখানে আসলে পর্যটনের কিছুই নেই। হতাশ হয়ে যাত্রা করলাম খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার পার্কের দিকে। পার্কের উন্নয়ন চলমান। কৃত্রিম লেক খনন চলছে। তার উপর স্থাপন করা হয়েছে ঝুলন্ত সেতু। জায়গাটা চমৎকার। সন্ধ্যা পর্যন্ত কাটালাম সেখানে। অতঃপর হেটে হেটে মোটেলে ফেরা। রাতে প্রিয় শিক্ষক মুয়্যিদ স্যার অসুস্থ হয়ে গেলেন। এবারও গাড়ী নিয়ে হাজির জীবন আংকেল। ওনার গাড়িতে করে স্যারসহ কয়েকজন গেল ডাক্তার দেখাতে। আমরা গেলাম জুমঘর কমিউনিটি সেন্টারে নিমন্ত্রণ খেতে। ডাক্তার দেখানো শেষে স্যারসহ বাকিরাও হাজির। ট্যুরের সবচেয়ে সুখকর রাত ছিল সে রাতের খাবার পর্ব। আংকেল যতটুকু যত্ন নিয়ে সে আয়োজন করেছেন, খাবারের স্বাদেও সে যত্নের বহিঃপ্রকাশ। কাঠির ভেতর মাছের টুকরা গেঁথে ফ্রাই করা আইটেমটা ছিল আমার কাছে নতুন ও অসাধারণ। উপজাতীয় রান্নার স্টাইলে ডিমের মেন্যুটা ছিল দারুণ। আজ যখন পুরো সফরের দিকে ফিরে তাকাই, বোধ করি মি. জীবন আংকেলের সেই আতিথেয়তা ছিল আমাদের পরম পাওয়া। জুমঘর থেকে ফিরে এলাম মোটেলে। সফরের প্রথম দিন ভালো লাগার অনুভূতিসহ শেষ হল।

 

১৩ তারিখ সকাল আটটার মধ্যে নাস্তা খেয়ে নেমে গেলাম পথে। গন্তব্য সাজেক। তিনটি চাঁদের গাড়িতে করে রওয়ানা দিলাম। এই গাড়িতে হুড খোলা যায় না। ফলে আনন্দে কিছুটা ভাটা পড়ল। ঘন্টাখানেকের মধ্যে পৌছে গেলাম দীঘিনালা বাজারে। সেখানে পৌছার পর স্যার আবার অসুস্থতা বোধ করলেন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম দীঘিনালায়। স্যারকে হাসপাতালে বিশ্রামে রেখে আমরা চললাম পানছড়ির উদ্দেশে। দ্বিতীয় ব্যচের ওরা চলে গেল সাজেক। পানছড়ি খাগড়াছড়ি থেকে ২৪ কিলোমিটার। দীঘিনালা থেকে খাগড়াছড়ি হয়ে গেলাম সেখানে। সেখানে দর্শনীয় স্থান মূলত একটি বৌদ্ধ মন্দির। বিশালাকৃতির একটি বুদ্ধমূর্তি স্থাপন করা হয়েছে সেখানে। পানছড়ি থেকে মোটেলে ফিরে এলাম সাড়ে তিনটা নাগাদ। ইতিমধ্যে স্যার দীঘিনালার হাসপাতাল থেকে মোটেলে ফিরে এসেছেন। দশ মিনিট পরেই স্যারসহ সবাই বের হলাম আলুটিলা গুহা ও রিছাং ঝর্ণার উদ্দেশে। আমরা কয়েকজন এবার চড়ে বসলাম গাড়ির ছাদে।আলুটিলা গুহা হলো আলুটিলা পাহাড়ের নিচে একটি প্রাকৃতিক গুহাপথ। গুহাটির সর্বোচ্চ দৈর্ঘ ১০০ মিটার, প্রস্থ ৫-১০ মিটার, উচ্চতা ৩-৮ মিটার। গুহার পাদদেশে ঠাণ্ডা পানি প্রবাহ আছে। জমাটবাধা অন্ধকার তাই বাঁশের তৈরি মশাল নিয়ে ঢুকতে হয়েছে। কিছুক্ষনের জন্য নিজেদের আদিম মানুষ মনে হয়েছিল। এরপরের গন্তব্য রিছাং ঝর্ণা। এটি একটি প্রাকৃতিক ঝর্ণা। অনেক উচু পাহাড় থেকে হেটে নিচে নামতে হয় সেখানে পৌছতে। ঝর্ণা দর্শন শেষে এবার ফিরে আসার পালা। সারা দিনের স্বল্প আহারে সবাই ক্লান্ত। হেটে পাহাড়ের উপরে উঠতে গিয়ে মনে হচ্ছিল পায়ে যেন শিকল বাঁধা। রিছাং ঝর্ণায় যাওয়া-আসার পথে রোমাঞ্চের কমতি নেই। এত বিপজ্জনক রাস্তা যে আত্না কেপে উঠেছিল!

 

সফরের তৃতীয় দিন। মাথার উপর সূর্য আগুন ঝরাচ্ছে। যতদূর দৃষ্টি যায় উঁচুনিচু পাহাড়। আর তার মধ্য দিয়ে তৈরি করা রাস্তায় আমরা ছুটে চলেছি সাজেকের পানে। সাজেকে যেতে হলে খুব সকালে রওয়ানা দেওয়াই ভালো। কিন্তু আমাদের বিলম্ব হওয়ার মজাটা এখন টের পাচ্ছি রোদে পুড়ে। কিন্তু তাতে কি! ড্রাইভার আনোয়ার ভাইয়ের চাঁদের গাড়িতে আমরা যাচ্ছি ছাঁদের উপর বসে হৈ হুল্লোড় করতে করতে। আমাদের ভ্রমণে এই আনোয়ার ভাই ছিলেন একজন উল্লেখযোগ্য চরিত্র। প্রতিদিন আমাদের সাথে দুটি চাঁদের গাড়ী থাকত। আমিসহ কয়েকজন ছিলাম আনোয়ার ভাইয়ের গাড়ির নিয়মিত যাত্রী। অন্য গাড়িটার সাথে পাল্লা দিয়ে ওভারটেক করা, পাহাড়ী রাস্তায় দূরন্ত গতিতে গাড়ী ছুটিয়ে আমাদের রোমাঞ্চের যোগান দিয়েছিলেন আনোয়ার ভাই। পথিমধ্যে গাড়ী থামাতে হল। কারণ এক বন্ধুর ডায়রিয়া। প্রকৃতির এই লীলাভূমিতে এসে প্রকৃতির মাঝে বসে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার সুযোগ তো সবসময় আসে না! বন্ধুটিও সে সুযোগের সদ্ব্যবহার করল! আবারও গাড়ী ছুটল। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের প্রায় সত্তর কিলোমিটারের এই রাস্তায় যাওয়ার যে স্মৃতি হৃদয়ে অঙ্কিত হয়েছে তা কখনো ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। পথে দেখলাম অনেক ছোট ছেলে মেয়ে আমাদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। আমারা তো দারুণ খুশী! পাল্টা হাত নেড়ে আমরাও জবাব দিলাম। পড়ে জানতে পারলাম, পর্যটকদের শুভেচ্ছা জানানোর সময় বাচ্চাদের চকলেট দেওয়ার একটা রেওয়াজ আছে। শুনেছি, আমাদের সেনাবাহিনী এই পথ দিয়ে যাওয়া আসার সময় নাকি তাদের চকলেট দেয়। মনটা খারাপ হয়ে গেল। আগে জানলে অনেক চকলেট নিয়ে আসতাম। এত সুন্দর ও ফুটফুটে বাচ্চাদের হাতে কিছু না দিতে পারায় খারাপ লাগছিল। সাজেকে যাওয়ার রাস্তা বোধ করি বাংলাদেশের সবচেয়ে বিপজ্জনক রাস্তা। রাস্তা এমন সব বাঁক নিচ্ছিল ও উপরে উঠে আবার নিচে নেমে যাচ্ছিল যে মনে হচ্ছিল প্রাকৃতিক রোলার কোস্টার। শেষ পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা সবচেয়ে ভয়ংকর ও সুন্দর। সফরের সবচেয়ে ভয়মিশ্রিত আনন্দানুভূতি পেয়েছিলাম এই পথজুড়ে।

 

প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টায় আমরা সাজেক পৌছলাম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০ ফিট উপরে সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে তৈরি করা হয়েছে এই পর্যটন কেন্দ্র। চারদিকে ডেউয়ের মত পাহাড় ও মেঘ। দৃষ্টির সীমানার মধ্যে দেখা যাচ্ছে মিজোরামের পাহাড়। সীমান্তের কাছে হওয়ায় এখানে বিজিবি ক্যাম্প আছে। অনুভূতি এখানে ভাষাহীন। শুধু উপলব্ধি করা যায়। আমরা গেলাম সাজেকের একটি গ্রাম দেখতে। পাহাড়ের উপর গ্রাম; নাম – কংলক পাড়া। গাড়ী থামিয়ে পাহাড় বেয়ে উপড়ে উঠতে হলো। এত উপড়ে জনবসতি আগে কখনো দেখিনি। জীবন এখানে সংগ্রামের আঁকড়ে গড়া। এই সংগ্রাম প্রকৃতির সাথে। তবে সভ্যতার ছোঁয়া এখানেও লেগেছে। অনেক বাড়িতেই সোলার প্যানেল আছে। সেই সাথে আছে পানির পাম্প। অধিবাসীদের বেশীরভাগ খ্রিষ্টান। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন খ্রিষ্টান মিশনারি সংস্থা ধর্ম প্রচার করছে অনেক বছর যাবত। এঁরা তাদের হাতেই ধর্মান্তরিত। জীবন যাত্রায় তাঁরা অনেক আধুনিকতা রপ্ত করেছে। বিশেষ করে মেয়েদের পোশাকে আধুনিকতার ছোঁয়া ছিল লক্ষণীয়। তাঁদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হয়েছে সাজেক পর্যন্ত রাস্তা নির্মিত হওয়ায়। এর আগে তাঁরা ছিল পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন, কিন্তু রাস্তা হওয়ার পর তাঁরা সভ্যতার ছোঁয়া পাচ্ছে। এজন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি। কংলক পাড়াতে আছে প্রাইমারি স্কুল। আমাদের চারদিকে ছুটে বেড়ানো ছোট ছোট বাচ্চাদের মধ্যে কেউ হয়ত কোন একদিন পড়বে কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে। সর্বত্র স্বপ্নের ছড়াছড়ি।

 

এবার ফিরে আসার পালা। বিকাল সাড়ে চারটায় আমরা ফিরতি যাত্রা শুরু করলাম। আবারও পথের দুপাশে ছোট বাচ্চাদের হাতছানি। এবার আমরা আমাদের সবার ব্যাগ খুঁজে যা কিছু পেলাম – কিছু ক্যান্ডি, আঁচার, চিপস, বিস্কুট ইত্যাদি গাড়ী থেকে বাচ্চাদের দিকে ছুঁড়ে দিতে লাগলাম। একটা ক্যান্ডি পেয়ে ছোট বাচ্চাদের যে আনন্দ, আমরা শহুরে মানুষেরা হয়তো হাজার টাকার খাবার পেয়েও তা পাই না। এই দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চলে ওদের কাছে একটি চাটনির প্যাকেট মানে অনেক কিছু। কারণ হাত বাড়ালেই ওরা সবকিছু পায় না। চারদিনের খাগড়াছড়ি ভ্রমণে আমি একটা ব্যপার ভালো করে বুঝতে পেরেছি। আমরা যারা গাড়ির জানালা দিয়ে অথবা দুয়েক ঘন্টা পাহাড়ে উঠে-নেমে রোমাঞ্চ উপভোগ করার জন্য এখানে আসি; পাহাড়ের মর্মকথা এতটুকুতেই উপলব্ধি করা যায় না। এখানকার অধিবাসীদের কাছে পাহাড় কোন রোমাঞ্চ নয়। তাঁদের কাছে এটা একটা যুদ্ধ। আমি দেখেছি পানির পাত্র হাতে পাহাড়ী পথে হেটে যাচ্ছে কোন রমণী বা পুরুষ। এই হেটে যাওয়া তাঁদের কাছে একটা সংগ্রাম; বেঁচে থাকার সংগ্রাম। সুতরাং কয়েকদিনের ভ্রমণে এই অঞ্চলের জীবনের সুর ঠিক আয়ত্ত্ব করা যায় না।

 

মোটেলে ফিরে এলাম রাত আটটায়। স্যারসহ কয়েকজন রাতে কিছু কেনাকাটা করলাম খাগড়াছড়ি শহরের বিভিন্ন দোকান ঘুড়ে ঘুড়ে। মোটেলে ফিরে গল্প-আড্ডা; অতঃপর ঘুম। পরদিন সকালে ব্যাগ-পত্র নিয়ে মোটেল থেকে বের হলাম। আজ খাগড়াছড়ি থেকে বিদায় নেব। এ মাটিতে আর পা পড়বে কিনা জানি না। কিন্তু মনের পর্দায় অঙ্কিত রেখাগুলো থাকবে চিরকাল।

Share via email

ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংবাদ

এই সংবাদটি ৬ জুন ২০১৫ইং, শনিবার ৯টা ০১মিনিটে প্রবন্ধ, বিভাগীয়, ভূগোল ও পরিবেশ (GEE), শীর্ষ সংবাদ, সর্বশেষ ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের মন্তব্যগুলি স্বয়ঙ্ক্রিয় ভাবে পেতে সাবস্ক্রাইব(RSS) করুন। আপনি নিজে মন্তব্য করতে চাইলে নিচের বক্সে লিখে প্রকাশ করুন।

মন্তব্যসমূহ

120 x 200 [Sitewide - Site Festoon]
প্রধান সম্পাদক: সৈয়দ মুক্তাদির আল সিয়াম, বার্তা সম্পাদক: আকিব হাসান মুন

প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার প্রধান সম্পাদকের। Copyright © 2013-2017, SUSTnews24.com | Hosting sponsored by KDevs.com