360 x 130 ad code [Sitewide - Site Header]

শাবিপ্রবির পরিবহন ব্যবস্থা : চালকের স্বেচ্ছাচারিতা, ধাক্কার বিনিময়ে শিক্ষা, বার্ষিক ব্যয় ৩ কোটি

Share via email

সাঈদ ইশতিয়াক:
 শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর ছাত্রছাত্রীদের পরিবহনে নিয়োজিত বাসগুলোর চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিতই উঠছে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগ। প্রতিনিয়তই আহত হচ্ছেন অনেকে। ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। বারবার অভিযোগ ওঠার পরও কর্তৃপক্ষের কোন পদক্ষেপ নেয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে না।

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ রনি ওয়াহিদ।

শাবিপ্রবির বাস চালকদের স্বেচ্ছাচারিতায় নিয়তই শারীরিক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দুইএকদিন পরপরই সাস্টিয়ানদের ফেসবুক গ্রুপ “আমরা সাস্টিয়ান”- এ দুর্ঘটনার পোস্ট আসা এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ আহত হচ্ছেই। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের সাথে চালকের দুর্ব্যবহার দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। নির্দিষ্ট স্থানে নামতে বা উঠতে চাইলেও বাস না থামানো অথবা নামতে বা উঠতে পুরোপুরি বাস না থামানো, নামার আগেই বাস ছেড়ে দেয়া এগুলোর সাথে মানিয়েই সাস্টিয়ানদের চলাচল করতে হয় বাসে।

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ শাহরিয়ার মাহমুদ সৈকত।

এদিকে প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্ত অপ্রতুল এ বাসগুলোতে ঝুলে ঝুলে চাপাচাপি করে যেতে হয় ছাত্রছাত্রীদের। শিক্ষার্থী পরিবহনে নিয়োজিত বিআরটিসি থেকে উচ্চমূল্যে ধার করা এসব বাসের প্রায় সবগুলোই রাস্তায় চলাচলের অনুপযুক্ত। রাস্তায় চলতে চলতে হঠাত বিকলাঙ্গ হয়ে যাওয়া বা মাঝ রাস্তায় থেমে যাওয়া বাসকে ঠেলে স্টার্ট করা ঘটনার সাথে বাসে চলাচলকারী প্রায় সকল শিক্ষার্থীই কমবেশি পরিচিত। অথচ ১৪ ই মার্চ, ২০১৭ দৈনিক যুগান্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, মাসে বিআরটিসিকে ভাড়া দিতে হয় মাসে ২৪ লাখ টাকা বা বছরে ২ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা। বিনিময়ে একদিকে সড়ক দুর্ঘটনা, শারীরিক হতাহত, প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুলতা যেমন মেনে নিতে হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি সহ্য করতে হচ্ছে চালকের দুর্ব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতা।

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ শফিকুল ইসলাম বাদল।

“আমরা সাস্টিয়ান”- এর এক পোস্টে শফিকুল ইসলাম বাদল নামের এক শিক্ষার্থী এ ঘটনাকে “ধাক্কার বিনিময়ে শিক্ষা” নামে তুলে ধরেন।

স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের কয়েকদিন আগে ট্রাফিক আইন নিয়ে করা আন্দোলনের সময় শাবিপ্রবির কাগজপত্র ও ফিটনেসবিহীন বাস আটকিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে ছোটছোট ছেলেমেয়েরা বলে মাহবুবুর রহমান তার এক পোস্টে জানান।

এছাড়াও দুর্ঘটনার নিয়মিত পোস্টগুলোর মধ্যে,

গত ১ অক্টোবর ১২:১০ এর বাসের চালকের সুরমা গেটের সামনে বেপরোয়া ব্রেক চাপায় সজল নাথ কপালে ও দাঁতে আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে তিনি তার “আমরা সাস্টিয়ান” গ্রুপের পোস্টে উল্লেখ করেন।

একই পোস্টের কমেন্টে আজাহার জামান জানান যে, চরম জ্যাম ছাড়া নামার সময় বাস কখনো পুরোপুরি থামানো হয় না।

আরাত জাহান লিজা উল্লেখ করেন, কয়েকদিন আগে তার নামার জন্য বাস চালক বাস থামালেও নামতে না নামতেই আবার বাস টান দেন। ফলাফলস্বরূপ সামান্য একটুর জন্য চাকার নিচে পড়ে যান নি তিনি ঠিকই, কিন্তু পা মচকে যায় তার।

মাহফুজ শাওন নামের একজন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, নাইরপুলের বাস হতে নামার সময় অর্থনীতি বিভাগের একজন ছাত্র ঈদগাহে বাস থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজে নেয়া হয়।

বাস থেকে নামতে চাওয়ার পরও বাস না থামানো কিংবা সম্পূর্ণ বাস কখনই সম্পূর্ণ না থামানো, নামার আগেই বাস টান দেয়া এবং এসবের ফলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার এরকম উদাহরণ একটি দুটি নয়, বরং শিক্ষার্থীদের অভ্যাসে পরিণত হওয়ার মত একটি ব্যাপারে পরিণত হয়েছে।

অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য নগণ্য সংখ্যক বাস, আর সংখ্যালঘু শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় অধিক বাস বরাদ্দ দেয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজমান। “কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকেরা কোন বাসে ১৫/১৫ জন, এমনকি ৪/৫ জন পুরো বাস দখল করে যাতায়াত করেন। সংখ্যালঘুদের বাস যেখানে প্রায় খালি যাচ্ছে, সেখানে ছাত্রছাত্রীদের বাস সংখ্যা, রুট আগের তুলনায় কমিয়ে ফেলা হয়েছে। উপচে পড়া ভিড়ে বাসে সিট পায় না শত শত ছাত্রছাত্রী, যাদের অনেকের পকেটে মাস শেষে সিএনজি ভাড়াটুকুও অবশিষ্ট থাকে না”- এভাবেই ২ অক্টোবর আজমিনা তোড়া এক পোস্টের মাধ্যমে তার অভিব্যক্তি তুলে ধরেন।

এছাড়াও নির্ধারিত সময়ের দুই থেকে চার মিনিট পূর্বেই বাস ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ আছে বাস চালকদের বিরুদ্ধে। ফলাফলস্বরূপ, বাস ধরতে ব্যর্থ হোন অনেকেই। আগে বিভিন্ন জনের ঘড়ির সময় বিভিন্ন হলেও ইন্টারনেটের এ যুগে এরকম হওয়ার সুযোগ নেই, যা কেবলমাত্র চালকদের স্বেচ্ছাচারিতারই স্বাক্ষর বহন করে।

চালকদের এরকম অসংলগ্ন ব্যবহার ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোয় চাপা ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকেই। বারবার সড়ক দুর্ঘটনা, চালকদের স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না এবং তদানুযায়ী কোন পদক্ষেপও নেয়া হচ্ছে না। তবে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি সাড়া দিয়ে শাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ইতোমধ্যে কয়েকটি বাসের ব্যবস্থা করেন, যদিও তা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্ত অপ্রতুল। সেগুলোকেও চালকের অভাবে চালানো হচ্ছেনা বলে জানা গেছে। তবে উপাচার্যের সদয় হস্তক্ষেপে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থার এসব অনিয়ম দূর হবে, পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এসব অভিযোগের সুরাহা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শিক্ষার্থীরা।

Share via email

ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংবাদ

এই সংবাদটি ২ অক্টোবর ২০১৮ইং, মঙ্গলবার ১৬টা ১২মিনিটে শিক্ষাঙ্গনে জীবনযাত্রা, শীর্ষ সংবাদ, সর্বশেষ ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের মন্তব্যগুলি স্বয়ঙ্ক্রিয় ভাবে পেতে সাবস্ক্রাইব(RSS) করুন। আপনি নিজে মন্তব্য করতে চাইলে নিচের বক্সে লিখে প্রকাশ করুন।

Leave a Reply

300 x 250 ad code innerpage

Recent Entries

120 x 200 [Sitewide - Site Festoon]
প্রধান সম্পাদক: সৈয়দ মুক্তাদির আল সিয়াম, বার্তা সম্পাদক: আকিব হাসান মুন

প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার প্রধান সম্পাদকের। Copyright © 2013-2017, SUSTnews24.com | Hosting sponsored by KDevs.com