360 x 130 ad code [Sitewide - Site Header]

প্লাস্টিক থেকে জ্বালানি উৎপাদন করলেন শাবিপ্রবির প্রাক্তন শিক্ষার্থী

Share via email

একসময় পলিথিন পরিবেশের জন্য হুমকি মনে হলেও বর্তমানে এই পরিত্যক্ত পলিথিন ব্যাগ আর পরিবেশের জন্য হুমকি নয়। এখন পলিথিন আর ফেলনার জিনিস নয়। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ব্যাগ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন করা সম্ভব। শুধু প্লাস্টিক ব্যাগ নয়, পরিত্যক্ত শিশুদের খেলার পুতুল, ভাঙা চেয়ার-টেবিল থেকেও জ্বালানি তেল উৎপাদন সম্ভব। এর ফলে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ব্যাগ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের মাধ্যমে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব এবং পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষা পাবে সমগ্র দেশ।

ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে এবং এর আশপাশে লক্ষাধিক টনের মতো পলিথিন আছে। এই পলিথিন উদ্ধার করে তা জ্বালানি তেলে রূপান্তর করা সম্ভব। এতে করে বুড়িগঙ্গা নদী ও পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষা পাবে। ওই তেল সব ধরনের যানবাহন, সেচপাম্পসহ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এ প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। এ জ্বালানি বাজারে চলমান অন্যান্য জ্বালানি তেল থেকেও অর্ধেক খরচে ব্যবহার করা যায়। প্রাথমিক অবস্থায় স্বল্প পরিসরে একটি মেশিন থেকে প্রতি মাসে কমপক্ষে ৩০০ লিটার তেল উৎপাদন করা যাবে। বড় পরিসরে প্রতি মাসে লাখ লাখ লিটার তেল উৎপাদন করা যাবে। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ী হবে। এ প্রযুক্তি যথাযথ ব্যবহারের পর বিদেশেও তেল রপ্তানি করে সরকার বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা লাভ করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি যুগান্তকারী বিপ্লব সূচিত হবে এবং পরিবেশ ও জ্বালানিতে লাভবান হবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

এ উৎপাদনে বাংলাদেশি গবেষকের সাফল্য দেশে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান পরিত্যক্ত প্লাস্টিক থেকে ডিজেল, পেট্রল ও তেল উৎপাদন কৌশল আবিষ্কার করে দেশে সাড়া ফেলেছেন। প্রাথমিক দিকে মাহমুদুর রহমান পরীক্ষামূলকভাবে ৩০ গ্রাম প্লাস্টিক ব্যাগ থেকে ১৫ মি.লি. জ্বালানি তেল উৎপাদন করেছেন। তা ক্লে বেইস ক্যাটালিস্ট দ্বারা তৈরি। সম্প্রতি অধিকতর গবেষণার ফলে এ পদ্ধতিতে আরও সাফল্য পাওয়া গেছে ৫০ গ্রাম প্লাস্টিক থেকে ৫৬ মি.লি. জ্বালানি তেল উদ্ভাবন করে। এতে করে ১ কেজি প্লাস্টিক থেকে ১.১২ লিটার তেল উৎপাদন করা সম্ভব। আর বাংলাদেশে ক্লে ক্যাটালিস্টে এই প্রথম, যা খুবই সস্তা। ভবিষ্যতে এর পরিমাণ বাড়তে পারে। যার ফলে এ জ্বালানি আরও বেশি সাশ্রয়ী হবে। বিজ্ঞানী মাহমুদুর রহমান এ প্রকল্পের গবেষণা অর্থ-সহযোগিতা পেয়ে নিজেই এই স্বল্প মাত্রার মেশিন তৈরি করেন এবং মেশিনের ডিজাইনও তার তৈরি। এসব মেশিন বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না। এ আবিষ্কার আমাদের দেশে শিল্পায়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। প্রথম দিকে এ প্রক্রিয়ায় ১ কেজি প্লাস্টিক থেকে আধা লিটার তেল উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ১.১২ লিটার জ্বালানি তেল বের করা সম্ভব হয়েছে। এ তেল সম্পূর্ণ সালফার মুক্ত। এ প্রক্রিয়ায় ১৭% গ্যাস, ৪৩% পেট্রল, ২৩% কেরোসিন, ১৪% ডিজেল এবং ৩% কার্বন রেসিডিউ তৈরি হয়। ৫০ গ্রাম প্লাস্টিক থেকে ৪১.৮৭ গ্রাম জ্বালানি তেল উৎপাদন করা হয়। এতে বাকি ৮ গ্রাম গ্যাস উৎপাদন হয় সেই গ্যাস এ মেশিনে টেমপারেচার হিট হয়। এ গ্যাসকে চাইলে জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব। তাই পুরোটাই পরিবেশ-বান্ধব। এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত লাভজনক হবে, কারণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহূত ক্যাটালিস্টটি তৈরির কাঁচামাল সস্তা ও সহজলভ্য। এ প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত মিশ্রিত তেলকে (Fractional Distillation)  এর মাধ্যমে আলাদা করে প্রতি লিটার ৩০-৩৫ টাকা হারে বাজারজাত করা সম্ভব। আর এ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ পরিবেশ-বান্ধব। সম্প্রতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ক্যাম্পাসে ক্যাটালিস্ট ডিগ্রেশনের মাধ্যমে প্লাস্টিক থেকে তেল উৎপাদনবিষয়ক একটি পেপার প্রেজেন্ট করেন। সাধারণভাবে প্লাস্টিক থেকে তেল উৎপাদনে জিও লাইট, মিলিমা এলিমিনা ক্যাটালিস্ট ব্যবহার হয়ে থাকে। আর এ ক্যাটালিস্ট বাজারে অত্যন্ত ব্যয়বহুল। যার ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। বিজ্ঞানী মাহমুদুর রহমান এখানে ক্লে ক্যাটালিস্ট ব্যবহার করেন। যার কারণে এটি খুবই সস্তা ও ব্যবহারযোগ্য।

এ গবেষণাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা খাতে উচ্চশিক্ষা গবেষণা সহায়তার লক্ষ্যে Selective Catalytic Degradation of Waste Plastics to Gasoline & Diesel Fuel প্রকল্পের অর্থায়নে সম্পাদন করা হয়েছে। এ প্রকল্পে বুয়েটের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শিক্ষক ড. আয়েশা শারমিন ও ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (গাজীপুর)-এর এমফিল গবেষক মিজানুর রহমান ও ওমর ফারুক এ কাজে সহায়তা প্রদান করেছেন।

এ প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

প্লাস্টিক থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের কৌশল সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের কাছে পেশ করা হয়। উপাচার্য এ উৎপাদন কৌশলকে একটি যুগান্তকারী সাফল্য বলে মন্তব্য করেছেন।

ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান যুক্তরাজ্যের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে, পলিমার তৈরির ক্যাটালিস্টের ওপর  পিএইচডি এবং নেদারল্যান্ডসের ইনডহবেন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বাংলাদেশে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিভাগে এমএসসি এবং বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

যুক্তরাজ্য থেকে আসার পর ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান দেশের রাস্তায় আনাচে কানাচে পলিথিন প্লাস্টিকের অযাচিত ব্যবহার দেখে মনের আয়না থেকে এ বিষয়ে প্রথম কাজ করা শুরু করেন। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আর্থিক সহায়তা পেলে অতি দ্রুত একটি কারখানা স্থাপন করে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের আগে তিনি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, চিটাগাং-এ সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত ছিলেন। ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লি. (পেট্রোবাংলার একটি প্রতিষ্ঠান)-এর সাবেক মহাব্যবস্থাপক (অব.) মো. মিজানুর রহমানের ছেল।

সংবাদঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন।

Share via email

ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংবাদ

এই সংবাদটি ১৪ আগস্ট ২০১৮ইং, মঙ্গলবার ২২টা ৫১মিনিটে প্রতিভার স্বাক্ষর, রসায়ন, সর্বশেষ, সাস্টিয়ান উদ্যোগ ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের মন্তব্যগুলি স্বয়ঙ্ক্রিয় ভাবে পেতে সাবস্ক্রাইব(RSS) করুন। আপনি নিজে মন্তব্য করতে চাইলে নিচের বক্সে লিখে প্রকাশ করুন।

Leave a Reply

300 x 250 ad code innerpage

Recent Entries

120 x 200 [Sitewide - Site Festoon]
প্রধান সম্পাদক: সৈয়দ মুক্তাদির আল সিয়াম, বার্তা সম্পাদক: আকিব হাসান মুন

প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার প্রধান সম্পাদকের। Copyright © 2013-2017, SUSTnews24.com | Hosting sponsored by KDevs.com