360 x 130 ad code [Sitewide - Site Header]

খাদ্যে ভেজাল ও বিষক্রিয়া; প্রয়োজন আইনের যথাযথ প্রয়োগ

Share via email

খাদ্য আমাদের একটি মৌলিক অধিকার। এটি নিশ্চিত করতে না পারলে মৌলিক অধিকারটি লঙ্ঘিত হবে। আমাদের দেহের সব কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজন শক্তির। আর এই শক্তি আসে খাদ্য থেকে।

খাদ্যে ভেজাল বিষয়টি আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়। ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত হোটেল-রেস্টুরেন্ট, কোনটিই ভেজাল মুক্ত নয়। রমজানকে কেন্দ্র করে ভেজাল খাদ্যের বিস্তার বহু গুনে বেড়ে যায়। এসব ভেজাল খাদ্য গ্রহনের ফলে ভোক্তার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

তরমুজ খেয়ে অনেক শিশু মৃত্যুর কথা আমরা শুনেছি। সব রকম মৌসুমি ফলে মেশানো হয় কার্বাইড, শাক সবজি কপার সালফেটের পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয় টাটকা দেখানোর জন্য। মাছে ফরমালিন, অপরিপক্ক টমেটো হরমোন দিয়ে পাকানো হচ্ছে,গরুকে নিষিদ্ধ ঔষধ খাইয়ে মোটাতাজা করা হচ্ছে।

পচনরোধে বিষাক্ত ফরমালিন, তাজা দেখাতে মাছে রেড অক্সাইড ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে ভেজালের আরোও অসংখ্য দৃষ্টান্ত। এসব রাসায়নিক পদার্থ মানব দেহের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। মানুষের লিভার, কিডনি নষ্ট করে ফেলে। মানুষ হারিয়ে ফেলে তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ।

ভেজাল খাদ্যের বিস্তার কিভাবে বাড়ছে তা আমরা পরিসংখ্যান থেকেই সহজে বুঝতে পারি। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সারা দেশের ২১৮৬০ টি খাদ্য পণ্যের নমুনা পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ পণ্যে ভেজাল পাওয়া গেছে। মহাখালি পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউটের খাদ্য পরীক্ষাগারের তথ্যনুযায়ী, দেশের ৫৪ ভাগ খাদ্য পণ্যই ভেজাল ও দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এক গবেষণায় পাওয়া, গেছে শুধু ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে প্রতি বছর দেশে তিন লক্ষ লোক ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউটের একটি জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশের শতকরা ৫৩ ভাগ অপুষ্টি ও অপর্যাপ্ত খাদ্যাভাসের জন্য ভেজাল খাদ্য দায়ী। ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে শিশুদের বিভিন্ন রোগ, ব্লাড ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার ও মেয়েদের জরায়ুতে ক্যান্সারের প্রবণতা বেড়ে গেছে। জাতীয় টাস্কফোর্স, NTFS এর মতে ভেজাল খাদ্য সামগ্রী প্রতিবছর বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগসহ ডায়রিয়া ও অপুষ্টির জন্য দায়ী।

খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধের জন্য দেশে বিভিন্ন আইন তৈরি হলেও তা প্রয়োগ করার কোন নজির নেই। ১৯৭৪ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে খাদ্যে ভেজাল দেয়া ও ভেজাল খাদ্য বিক্রির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ আইন প্রয়োগের কোন দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় নি। পেনাল কোড-১৮৬০ এর ২৭২ অনুচ্ছেদ মোতাবেক খাদ্যে ও পানীয়তে ভেজাল দিলে সর্বোচ্চ শাস্তি ৬ মাসের কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ জরিমানা ১০০০ টাকা মাত্র, যা এই শতকে শাস্তি হিসেবে অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য।

বাংলাদেশ PFO ১৯৫৯ একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন কিন্তু এতে পর্যাপ্ত শাস্তি ব্যবস্থা নেই। এ আইনটি ২০০৫ সালে সংশোধন করা হয় যা এখন অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এখানে প্রথমবার খাদ্য দ্রব্যে ভেজাল মেশানোর জন্য শাস্তির বিধান সর্বোচ্চ ১ বছরের জেল অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। একই ধরনের অপরাধ করলে এই আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ বছরের জেল অথবা ২ লাখ টাকা জরিমানা। গবেষণায় বলা হয়েছে, নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর প্রণয়ন করা হলেও গেজেট প্রকাশ না করা,রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, জনসচেতনতার অভাব ইত্যাদি কারণে ভেজাল খাদ্যের পরিমাণ বেড়েই চলছে।

খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ একটি কার্যকর আইন অবকাঠামো থাকা দরকার, যা হওয়া উচিত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ এবং জবাবদিহিতামূলক।

লেখক পরিচিতি: তামান্না ফেরদৌস

৩য় বর্ষ ২য় সেমিস্টার

ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,

টাঙাইল।

লেখাটি  সাস্টনিউজের খোলাকলম বিভাগে প্রকাশিত। এ বিভাগে প্রকাশিত সকল মতামতের দায়ভার লেখকের।  আপনার  সুচিন্তিত মতামত  কিংবা প্রবন্ধ (৩০০ শব্দের উর্ধ্বে) পাঠাতে পারেন  sustnews24@gmail.com ঠিকানায়

Share via email

ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংবাদ

এই সংবাদটি ২৭ জুন ২০১৮ইং, বুধবার ১৩টা ০৮মিনিটে অতিথি লেখক, খোলা কলম ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের মন্তব্যগুলি স্বয়ঙ্ক্রিয় ভাবে পেতে সাবস্ক্রাইব(RSS) করুন। আপনি নিজে মন্তব্য করতে চাইলে নিচের বক্সে লিখে প্রকাশ করুন।

Leave a Reply

300 x 250 ad code innerpage

Recent Entries

120 x 200 [Sitewide - Site Festoon]
প্রধান সম্পাদক: সৈয়দ মুক্তাদির আল সিয়াম, বার্তা সম্পাদক: আকিব হাসান মুন

প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার প্রধান সম্পাদকের। Copyright © 2013-2017, SUSTnews24.com | Hosting sponsored by KDevs.com