360 x 130 ad code [Sitewide - Site Header]

“এরকম প্রতিভাধর শিক্ষার্থীদের শিক্ষক হয়ে গর্ববোধ করি!”

Share via email
অতিথি লেখক:
২০১৫ সাল। কার্নিভালের শেষ ইভেন্ট – কনসার্ট। সচরাচর কালচারাল প্রোগ্রামে আমার আগ্রহ কম থাকলেও সেদিন সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে গিয়েছিলাম। কতিপয় শিক্ষার্থী এই কনসার্টের জন্য অনেক টাকা নষ্ট করতেছে জানতাম। আমি একটু বিরক্তই ছিলাম বলা চলে। শেষের সারিতে কিছুক্ষণ বসে আমার সমস্ত রাগ চলে গেল। একটা প্রশান্তি আমার মনে গেথে রইল, যা আজও স্পষ্ট চোখের সামনে ভেসে উঠে। আমি অবাক হয়ে খেয়াল করলাম কনসার্টের সব পারফর্মার একটা বিশেষ ব্যাচ এর ছাত্র-ছাত্রী; যাদের আমি পরপর তিনটি কোর্স নিয়েছি। তাদের আমি অনেক কিছু হয়ত শিখিয়েছি – কিন্তু এই গান-বাজনা আর স্টেজ পারম্যান্স শিখানো ত দূরের কথা, আমি নিজেই তো জীবনে কখনো করিনি। যেই ছেলেকে আমি সুরমা গেটে কফিরাজ রেস্টূরেন্টে প্রতিদিন দেখি লুঙ্গি পরে এসে নাস্তা খেতে, সেই এখন স্টেজে গান গাচ্ছে। এমনকি পারফর্মারদের ৩ জনের ই আমি সরাসরি থিসিস সুপারভাইজার। এরা এত কিছু শিখলো কোথা থেকে!!
কেন জানিনা, ঠিক একই অভিজ্ঞতা এইবারের রি-ইউনিয়নের কালচারাল প্রোগ্রাম দেখে। প্রোগ্রামের অর্ধেক সময় পার হয়ে যাওয়ার পরে গিয়েছি দেখতে। বসার একটু পরেই দেখি সাদা শার্ট – গলার বোতাম খোলা, ঢিলে-ঢালা করে বাধা টাই পরে ইয়ো ইয়ো ভাব নিয়ে ৫-৬ টা ছেলে স্টেজে হিপহপ টাইপ ড্যান্স শুরু করলো। বলা বাহুল্য, একটু বিরক্তি নিয়েই দেখা শুরু করলাম। ২ দিন আগেও এদের জাভা ল্যাব নিয়েছি। ল্যাবের (অসাধারণ!!) পারম্যান্সের কারণে তিরস্কার ছাড়া পুরো সেমিস্টারে আর কিছুই এদের কপালে জুটেনি। এদের দিয়ে যে খুব বেশি আশা করা সম্ভব নয়, সে ব্যাপারে আমি পুরোপুরি নিশ্চিত। ল্যাবে না পারলেও স্টেজে তাদের পারফরমেন্স, আমার সেই ধারণাকে সংশয়ে ফেলে দিল। একটা ছেলে জাভা ঠিকমত না পেরেও এত সুন্দর ভাবে গানের তালে তালে, এমন চমৎকার আলো-আধারের লাইটিং এ, কোন ভুল ছাড়া কিভাবে নাচছে!! একটু পরেই দেখলাম আরেকটা প্রোগ্রাম শুরু হল। এদের যদিও ক্লাস নেই নাই, কিন্তু ছেলেটার গান শুরু হতেই দেখি দর্শক সারিতে যেভাবে উৎসাহের করতালি, তাতে তার গানের গলা যে খুব উচুঁমানের – এরকম একটা ধারণা তৈরী হয় আমার মনে। পরে আমার সংস্কৃতিমনা সহধর্মিনীর সাথে কথা বলে নিশ্চিত হই যে আমার ধারণা একদম সঠিক। এমনকি সাথে যেই মেয়ে গান গাচ্ছে, আরেক মেয়ে দাঁড়িয়ে পিয়ানো বাজাচ্ছে; তারাও নাকি অসম্ভব ট্যালেন্টেড। সত্যিই আমি হতবাক, আর এরকম প্রতিভাধর শিক্ষার্থীদের শিক্ষক হয়ে (নিজে কিছু না পারলেও) গর্ববোধ করি!
লেখক পরিচিতি: শেখ নাবিল মোহাম্মদ, শিক্ষক, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, শাবিপ্রবি
[খোলা কলম বিভাগে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার একমাত্র লেখকের, এর সাথে সাস্টনিউজ টোয়েণ্টি ফোর ডট কমের দৃষ্টিভঙ্গির মিল থাকতেও পারে নাও পারে। খোলা কলম বিভাগে লেখা প্রকাশ করতে চাইলে ন্যূনতম ৩০০ শব্দে আপনার লেখা পাঠাতে পারেন sustnews24@gmail.com ঠিকানায়।]
Share via email

ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংবাদ

এই সংবাদটি ৫ মে ২০১৮ইং, শনিবার ২২টা ৪৫মিনিটে খোলা কলম, সর্বশেষ ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের মন্তব্যগুলি স্বয়ঙ্ক্রিয় ভাবে পেতে সাবস্ক্রাইব(RSS) করুন। আপনি নিজে মন্তব্য করতে চাইলে নিচের বক্সে লিখে প্রকাশ করুন।

Leave a Reply

300 x 250 ad code innerpage

Recent Entries

120 x 200 [Sitewide - Site Festoon]
প্রধান সম্পাদক: সৈয়দ মুক্তাদির আল সিয়াম, বার্তা সম্পাদক: আকিব হাসান মুন

প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার প্রধান সম্পাদকের। Copyright © 2013-2017, SUSTnews24.com | Hosting sponsored by KDevs.com