360 x 130 ad code [Sitewide - Site Header]

প্রসঙ্গ: ক্যাম্পাস নিরাপত্তা

Share via email

অতিথি লেখক:
প্রকৃতপক্ষে কেবলমাত্র একটি প্রাচীর শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা বিধানে যে অক্ষম এটা বুঝতে রকেট বিজ্ঞানী হতে হয় না। যে ভদ্দরলোক ছিনতাই করতে পারে বা ক্যাম্পাসে ছাত্রী হলে জানালা কেটে চুরি করতে পারে অথবা রাতের অন্ধকারে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করতে পারে তার জন্যে একটি কাঁটাতারের বন্ধনী বা প্রাচীর টপকানো যে তুড়ির খেলা তাতো  সবারই বোধগম্য। তবে একটি বিশেষ পরিস্থিতির উদয় ঘটলেই কাঁটাতারের বেড়া অথবা প্রাচীরের মতো ‘অতিরিক্ত’ বাধাও পাহাড়সম বাধা হিসেবে প্রতিপন্ন হবে।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু মূলত এই বিশেষ পরিস্থিতি কী? কেন এমন পরিস্থিতি অবিরাজমান? এবং কিভাবে এর উদয় ঘটবে?

প্রথমেই আসি সেই বিশেষ পরিস্থিতিটি কী সে বিষয়ে। বিশেষ পরিস্থিতি হলো সন্ধ্যা পরবর্তী একটি জনমুখর ক্যাম্পাস যেখানে অপরাধীর অপরাধ সংঘটনের সর্বাধিক প্রিয় পরিস্থিতি তথা জনশূন্যতা অনুপস্থিত। এমতাবস্থায় জনমানুষের বাধার মতো বিরাট ভয়ের সাথে প্রাচীরের বাধার মতো ছোট/অতিরিক্ত ভয় এক হয়ে পর্বতপ্রমাণ হিসেবে পরিগণিত হবে। 

এখন দেখা যাক কেন এই পরিস্থিতিটি বিরাজ করছে না। আমরা সবাই জানি, ছাত্র-ছাত্রীরা সন্ধ্যা থেকে অন্তত রাত দশটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় গেট সংলগ্ন টঙগুলোতে ভিড় জমায়, বুঝতে কষ্ট হয় না যেহেতু ক্যাম্পাসে সন্ধ্যা পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞাজনিত কারণে কোনো টঙ (হাতেগোনা দু’একটা ব্যাতিত) খোলা থাকে না সেহেতু ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এত কাছে এসেও গেটের টঙগুলোতে বসে থাকে, চা-পানি খায়, আলাপ আলোচনা করে। বি বিল্ডিং এর টঙ যতক্ষণ খোলা থাকে সেটা কেমন গমগম করে সবাইতো তা দেখেছেন।

কিভাবে এই বিশেষ পরিস্থিতির উদয় ঘটবে সে প্রসঙ্গে আমার কিছু প্রস্তাবনা রয়েছে। এক, বিষয়টাতো আর এমন না যে, সন্ধ্যার পর টঙ খোলা রাখতে টঙ মালিকরা অনাগ্রহী। বরং প্রশাসন টঙগুলো খোলা রাখতে দিচ্ছে না। সুতরাং ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা প্রশ্নে প্রথম ও মুখ্য দাবি হবে টঙগুলো খোলা রাখা। দুই, ক্যাম্পাসে কতিপয় অঞ্চল  চিহ্নিত করে সেই জায়গাগুলোতে রোজ আলাপ আলোচনার আয়োজন (এই শব্দটি কালক্রমে তার প্রাসঙ্গিকতা হারাবে) করতে হবে। প্রথমদিকে কিছু উৎসাহী মানুষকে উদ্যোগী হয়ে কাজটা শুরু করতে হবে। তবে ক্রমেই সে অঞ্চলগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত বিচরণ কেন্দ্রে পরিণত হয়ে উঠবে। সেক্ষেত্রে আমার যে প্রস্তাবনাটির প্রেক্ষাপট মূলত ব্রিটেন দেশের একটি ভদ্রতার সূচক। তা হলো বিলেতে যখন কেউ রেস্তোরাঁয় আলাপ-আলোচনা করে তা যদি পাশের টেবিলের কারো কানে পৌঁছোয় তখন সেই আলোচনায় অংশগ্রহণ নাকি ওই ব্যক্তির নৈতিক অধিকারে পরিণত হয়। (যদিও এখানে মূলত সশব্দ আলাপ করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে তবে আমার আগ্রহ ‘নৈতিক অধিকার’ শব্দদ্বয়ের প্রতি)। সেরকমই এই অঞ্চলগুলোতে যে কোন আলোচনায় অংশগ্রহণ সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের নৈতিক অধিকারের আওতায় পড়বে, অর্থাৎ পরিচিতির অভাবে যে ভদ্রতা জনিত সংকটের উদয় ঘটে তা ঘটবে না। এই অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু মানুষের মধ্যে মিথষ্ক্রিয়ার পরিসর তৈরি হবে। বলাই বাহুল্য এই জোনগুলোতে একান্ত ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আলাপ করা অভদ্রতার কাতারে গণ্য হবে এবং তা কেউ স্বভাবতই করতে চাইবে না। আবার যতগুলো সংগঠন পাঠচক্র করে তারা এই অঞ্চলগুলোতে বসেই সর্বাধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারবে যা অবশ্যই পাঠচক্রের একটি উদ্দেশ্য। এতে করে পাঠচক্রের আয়োজক নির্দিষ্ট সংগঠন হলেও সেটা সাধারণ ছাত্রদের জায়গায় পরিণত হবে। তিন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সময়সীমা বর্ধন করে সপ্তাহে সাতদিন* নিদেনপক্ষে রাত ১০:৩০-১১:০০* টা পর্যন্ত করতে হবে। আমরা সবাই জানি মেসগুলোতে প্রায়শই পঠনোপযোগী পরিবেশের অভাবে অনেক ছাত্র পড়ালেখার অভ্যাস থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।সুতরাং মেসে পীড়িতরা তো বটেই, বাকি সবাই এই সময়টা লাইব্রেরিতে পড়ালেখা করতে পারবে। এবং ক্ষুধা পেলে বাইরের টঙগুলোতে চা-পানি পানের সুযোগ থাকবে। আর এমনিতেও কি লাইব্রেরির চেয়ে পড়ালেখা করার উপযোগী স্থান আর হয়? প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীর সকল উত্তমমানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২৪ ঘন্টা লাইব্রেরি সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। নিরাপত্তা প্রশ্নে এর ভূমিকা কী তা বুঝতে আমরা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পর্যবেক্ষণ করতে পারি। দেখা যায় যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২৪ ঘন্টা লাইব্রেরির প্রচলন আছে, সেখানে নারীরা অনেক বেশি নিরাপদ। আরেকটা দিক এমন যে, প্রশাসন কর্তৃক দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় পর টঙ বন্ধ করে দেয়ায় ২৪ ঘন্টা লাইব্রেরি খোলা থাকাতেও পাঠাগারে শিক্ষার্থী সমাগম টঙ বন্ধ হওয়ার পর থেকে কমে যেতে দেখা গেছে। সুতরাং দুটো যুগপৎ খোলা থাকলেই সর্বাধিক প্রভাব সাধিত হয়। তবে আপাতত ২৪ ঘন্টা লাইব্রেরির দাবিটা অনেকের কাছে সময়োপযোগী নাও মনে হতে পারে। তাই ১০:৩০-১১:০০ এর প্রস্তাব করলাম। কিন্তু অবশ্যই মনে রাখতে হবে শেষতক ২৪/৭ লাইব্রেরির ব্যবস্থা অর্জনই আসল লক্ষ্য হবে।

সেই সাথে বলতে চাই, অনেকেরই দাবি ক্যাম্পাসে বহিরাগতদদের প্রবেশাধিকার রদ করার। এখন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে জনগণের টাকায় ছাত্রছাত্রীরা পড়ালেখা করে অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির মূলভিত্তি যেখানে সামগ্রিকতা, সেখানে এমন দাবি পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলনীতি থেকে আমাদের বিচ্যুত করে, তথা আমাদের জনবিচ্ছিন্ন করে দেয়। তাহলে প্রাইভেট আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্থক্য থাকে কোথায়? কারো যদি এতো নীতিকথা পছন্দ নাও হয় তাহলে আরেকটি স্বার্থের প্রশ্নও আছে এখানে। এমনটা হলে এলাকাবাসী তথা সিলেটীদের সাথে শিক্ষার্থীদের একটি শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্কের উদয় হবে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমাদের অনুপ্রবেশকারী মনে করে, তখন তারা আমাদের শত্রু ভাবতে শুরু করবে। তাই এমনটা কারো জন্যেই কাম্য নয়। বরং দাবিটা হতে পারে বহিরাগতদের আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণের, যেমন: মোটরযানসহযোগে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে আগমন রদ করা। এই একটা যৌক্তিক দাবিই আমার মাথায় আসে, তবে আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে আর কারো কোনো দাবি থাকলে আশা করছি মতামত দিবেন।

বি। দ্র। * চিহ্নিত অংশগুলো নিয়ে প্রাসঙ্গিক কিছু গঠনমূলক আলাপের জায়গা আছে তাই সেসব বিষয়ে অন্যান্যদের সুচিন্তিত মতামত আশা করছি।

লেখক পরিচিতি: সুদীপ্ত ভাস্কর, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ, শাবিপ্রবি।

[খোলা কলম বিভাগে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার একমাত্র লেখকের, এর সাথে সাস্টনিউজ টোয়েণ্টি ফোর ডট কমের দৃষ্টিভঙ্গির মিল থাকতেও পারে নাও পারে। খোলা কলম বিভাগে লেখা প্রকাশ করতে চাইলে ন্যূনতম ৩০০ শব্দে আপনার লেখা পাঠাতে পারেন sustnews24@gmail.com ঠিকানায়।]

Share via email

ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংবাদ

এই সংবাদটি ৯ মার্চ ২০১৮ইং, শুক্রবার ১৮টা ২০মিনিটে অতিথি লেখক, খোলা কলম, সর্বশেষ ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের মন্তব্যগুলি স্বয়ঙ্ক্রিয় ভাবে পেতে সাবস্ক্রাইব(RSS) করুন। আপনি নিজে মন্তব্য করতে চাইলে নিচের বক্সে লিখে প্রকাশ করুন।

Leave a Reply

300 x 250 ad code innerpage

Recent Entries

120 x 200 [Sitewide - Site Festoon]
প্রধান সম্পাদক: সৈয়দ মুক্তাদির আল সিয়াম, বার্তা সম্পাদক: আকিব হাসান মুন

প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার প্রধান সম্পাদকের। Copyright © 2013-2017, SUSTnews24.com | Hosting sponsored by KDevs.com