360 x 130 ad code [Sitewide - Site Header]

নারী, নিরন্তর শোষিত সমাজের গল্প

Share via email

খোলাকলম:

“আমার মা, বলতে গেলে আমার পৃথিবী। মা কে কতোটা ভালোবাসি তা বলে বোঝাতে পারবো না।” না এসব কথা লিখব না এর মধ্যে কেমন জানো খুব পরিচিত আবেগ লুকিয়ে আছে। মা সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমেই ঐ শব্দগুলো চলে আসে। কিন্তু আসলে মা কেমন? সত্যি বলতে মা হচ্ছে সবার কাছে একটা অদ্ভুত উপদেশের বাক্স। তার সামনে গেলে অদ্ভুত আর উদ্ভট সব উপদেশ বেরিয়ে আসে। যা শুনলে অনেক সময় হাসি পায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মায়ের কর্মকাণ্ড খুবই উদ্ভট, এর ফলশ্রুতিতে মা অনেক সময় হয়ে ওঠেন হাসির পাত্রী! অনেক ব্যাপারে মা স্মার্ট নন কিংবা খুব সাধারণ একটা ব্যাপার মাকে বোঝানো যাচ্ছে না, মুখ দিয়ে তখন বেরিয়ে আসে, “মা তুমি এমন কেন?”

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় এ আসার পর বলতে গেলে আমার কিছুটা টনক নড়ে। আশে পাশের সবগুলো মেয়ে, হোক সে সিনিয়র কিংবা জুনিয়র অথবা সহপাঠী তারা অনেক অনেক স্মার্ট, কোন কথা বলার আগেই বুঝে যায়। আমি অবাক হই, কারণ মা ও তো বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়েছেন তাহলে, মা তাদের মতো না হোক কিন্তু এরকম ভাড় (!) হয়ে গেলেন কিভাবে? ব্যাপারটা খুবই ভাবায় আমাকে। তারপর একটা প্রশ্ন মাথায় আসে, শুধু কী আমার মা এরকম নাকি সবার মা?

সে উদ্দেশ্যে আশে পাশের বন্ধুদের কাছে তাদের মা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি, কিন্তু তারাও ভয়ানক সব তথ্য দেয়। কারও মা ভয়ানক শুচিবায়ু, কেউ বলল পাশের বাড়ির আন্টি যা করে উনি তাই করেন, কেউ বলল আকাশ-কুসুম গল্প বানানোর কথা আবার কেউ বলল, আমার মা কম্পিউটার এমন সময় জানতেন যখন তা অনেকে চোখে দেখিনি, কিন্তু আজ সে মোবাইল ফোনে কল ধরা আর করা ছাড়া কিছুই করতে পারে না। একটু মজা করে বলল, “শি ইজ ট্যাকনোলজিক্যালি চ্যালেঞ্জড।” আমি সত্যিই অবাক হলাম, এতোজন মায়ের মধ্যে একজন বুদ্ধিমান বা স্মার্ট নন? এটা তো হতে পারে না, তাদের মধ্যে অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা করেছেন, উচ্চ শিক্ষিত, বর্তমানে চাকরিজীবী ও আছেন কিন্তু তাদের সবার একটাই সাধারণ সমস্যা। এখন প্রশ্ন হলো, কেন মায়েদের এ অবস্থা হলো?

উত্তরটা খুব সহজ, আমার জন্য, পরিবারের জন্য এবং সমাজটার জন্য। ভাবতে খারাপ লাগছিলো যে আমার জন্য! কিন্তু এটাই সত্যি যে আমার জন্য। মাকে আমরা আবর্জনা স্তুপের মতো ব্যবহার করি। বাইরে ঝামেলা হয়েছে, মায়ের উপর শুধু শুধু চোটপাট করি। কিংবা বিয়ের পর অঘোষিত কিছু অবশ্য পালনীয় নিয়মের মধ্যে তাকে আটকিয়ে ফেলা হয়, বারবার মনে করিয়ে দেয় তুমি পারো না, তুমি বোকা, তোমাকে দিয়ে হবে না। কখনো কখনো অতি আদরে  বলি, আমরা তো আছি, করছি। এর ফলে নারীদের কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে, তারা ব্যাংকে যেতে ভয় পাচ্ছে, হিসেব করতে ভয় পাচ্ছে, মানুষদের সামনে দাড়িয়ে কথা বলতে ভয় পাচ্ছে। আমরা সকলে মিলে তার আত্মবিশ্বাস কে হত্যা করছি আমরা হত্যা করছি একটা সত্তা কে। এর ফলশ্রুতিতে একজন নারী হয়ে উঠছেন আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা অন্য এক মানুষ। যার কোন নিজস্বতা নেই, যে বাঁচে তার পরিবারের জন্যে। যা তাকে করে তোলে স্বার্থপর, হিংসুটে, শুচিবায়ু গ্রস্থ, এবং কর্মদক্ষতাহীন। আর এর কারণ আমাদের পরোক্ষ শোষণ কিংবা তাকে কর্মদক্ষতাহীন করে দেবার প্রক্রিয়া। আমাদের প্রত্যেকটা সফলতার পেছনে আমাদের মায়েদের একটা করে অাত্মত্যাগ লুকিয়ে আছে। আমি দুঃখিত, আমি লজ্জিত, কারণ মাকে শোষণ করে আমি গড়ে উঠছি। হয়তো অসম্ভব স্বাধীনতা নিয়ে বেড়ে ওঠা আমাদের মায়েদের আমরা অদক্ষ করে ফেলেছি। অনেক বাবাদের স্বাধীন মেয়েরা হয়তো আমাদের জন্য হয়ে উঠবে কর্মদক্ষতাহীন। কিংবা আমাদের স্বাধীন ভাবে গড়ে তোলা আমাদের কন্যা সন্তানেরা হয়ে যাবে মানসিক ভাবে অক্ষম। কিন্তু বন্ধ থাকবে না নিরন্তর এ শোষণ। আর এ শোষণে গড়ে উঠব আমি, আমরা, এই সমাজ আর বিকশিত হবে পুরো পৃথিবী।

 

লেখক পরিচিতি: সৈয়দ তানভীর রেজা,

শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ (২০১২-১৩ সেশন), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

লেখাটি  সাস্টনিউজের খোলাকলম বিভাগে প্রকাশিত। এ বিভাগে প্রকাশিত সকল মতামতের দায়ভার লেখকের।  আপনার  সুচিন্তিত মতামত  কিংবা প্রবন্ধ (৩০০ শব্দের উর্ধ্বে) পাঠাতে পারেন  sustnews24@gmail.com ঠিকানায়

Share via email

ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংবাদ

এই সংবাদটি ৮ মার্চ ২০১৮ইং, বৃহস্পতিবার ১৩টা ৪৫মিনিটে খোলা কলম, সর্বশেষ ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের মন্তব্যগুলি স্বয়ঙ্ক্রিয় ভাবে পেতে সাবস্ক্রাইব(RSS) করুন। আপনি নিজে মন্তব্য করতে চাইলে নিচের বক্সে লিখে প্রকাশ করুন।

Leave a Reply

300 x 250 ad code innerpage

Recent Entries

120 x 200 [Sitewide - Site Festoon]
প্রধান সম্পাদক: সৈয়দ মুক্তাদির আল সিয়াম, বার্তা সম্পাদক: আকিব হাসান মুন

প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার প্রধান সম্পাদকের। Copyright © 2013-2017, SUSTnews24.com | Hosting sponsored by KDevs.com