360 x 130 ad code [Sitewide - Site Header]

স্বপ্নের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা

Share via email

আমি শিক্ষাবিদ নই। আমি এই ‘পাথুরে শিক্ষাব্যবস্থার’ অংশ, একজন ছাত্র। তবে আমি স্বপ্ন দেখি একদিন এই শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে। শীতে পাতা ঝরে যাওয়া ন্যাড়া গাছগুলো যেমন বর্ষাকালে গাঢ় সবুজ হয়ে ওঠে, তেমনি এই ‘পাথুরে শিক্ষাব্যবস্থা’ও একদিন আনন্দময় হয়ে উঠবে।

গায়ে ইউনিফর্ম চাপিয়ে সদ্য স্কুলে ভর্তি হওয়া শিশুটা প্রতিদিন নিজ আগ্রহে কেন স্কুলে যাবেনা? যখন তার স্কুলে থাকাকালীন সময়টুকু হবে বাসায় কম্পিউটার গেমস্, কার্টুনের চেয়ে ঢের আনন্দের। ক্লাস এইট পর্যন্ত একটা শিশু জীবনে চলার পথের সবচে’ দরকারী আর প্রয়োজনীয় শিক্ষাটুকু গ্রহণ করবে। এই শ্রেণী পর্যন্ত সে মূল্যবোধ শুধু শিখবেই না, স্কুলে এবং তার প্রাত্যহিক জীবনে সেসব প্র্যাকটিসও করবে। ব্যাংক একাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে রোড সাইন/সিগন্যালগুলো কি নির্দেশ করে- এসব শিখানো হবে শিক্ষার্থীদেরকে। তাকে নিজের মতো করে সৃজনশীল চিন্তা করার অনেক সুযোগ দিতে হবে। তবেই না আমরা বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, শিল্পী, উদ্যোক্তা পাবো। আমরা এই সুযোগটুকুই দেই না।

এদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমরা শিক্ষার প্রাথমিক স্তরের একজন শিক্ষার্থীকে নিজের মত করে জানার, নিজের আগ্রহের জায়গাগুলো আবিষ্কার করার কিংবা স্বাধীনভাবে চিন্তাভাবনার করার সুযোগ করে দেই কখনো? স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই আমরা প্রতিটা শিক্ষার্থীকে একটা কাঠখোট্টা সিলেবাসে আবদ্ধ করে দেই। তার নিজেকে, আশপাশকে নিজের মত করে চেনার সুযোগ অবশিষ্ট থাকে না। যত দ্রুত আমরা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এ সুযোগের জায়গুলো তৈরী করতে পারবো, তত দ্রুত আমরা তার সুফল লাভ করবো।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় ‘পাবলিক পরীক্ষা’ বলে অদ্ভুত একটা ব্যাপার আছে। বলা হয়ে থাকে, পাবলিক পরীক্ষাগুলো একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে। আসলেই কি তাই? একটা ১০-১১ বছর বয়সী শিশু আমাদের দেশে তার জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। তাকে জানানো হয়, জিপিএ নামক একটা মাপকাঠির মাধ্যমে তার ছাত্রত্বের মান নির্ধারিত হবে যেখানে জিপিএ ফাইভ হলো একজন ‘ভাল ছাত্রের’ পরিচয়। তাকে রীতিমত যে করেই হোক জিপিএ ফাইভ পাওয়ার এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় দাড় করিয়ে দেয়া হয়। এই প্রতিযোগিতায় ইয়া মোটা কিছু গাইড বই আর কোচিং সেন্টার হয় তার সঙ্গী। এখানেই তো আমরা নষ্ট করে দিচ্ছি তার সম্ভাবনা বা সৃজনশীলতা। তারপর থেকে তার শিক্ষাজীবনের একটা লক্ষ্য সে নিজের অজান্তেই দাড় করিয়ে ফেলে- “জিপিএ ফাইভ”!

এমন যদি হতো- ক্লাস এইট পর্যন্ত শিশুরা নিজের মত করে জানবে, শিখবে। হ্যাঁ, তাদের নির্দিষ্ট একটা কারিকুলাম অবশ্যই থাকবে। তবে সেটা যেন হয় আনন্দময় । এ পর্যন্ত তাকে কোনো পাবলিক পরীক্ষায় বসতে হবে না। তবে সে প্রায়ই ছোটখাট অনেক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যাবে যেটা তার কাছে কখনোই সেই অর্থে প্রতিযোগিতা মনে হবে না। প্রতিটা স্কুলে শিশুদের জন্য পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। কেননা দেশের সব স্কুলের সব শিশু একরকম না। তাই সবাইকে একটা পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব না। কো-কারিকুলার একটিভিটিজ সত্যিকার অর্থেই বিদ্যমান থাকবে। একজন ক্লাস এইট পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীর মধ্যে যেন পরিপূর্ণ মানুষের গুণাবলী বিদ্যমান থাকে।

 

লেখক পরিচিতি: সওগাত আশরাফ ,

শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

অর্থনীতি বিভাগ, ২০১৬-১৭ সেশন।

লেখাটি  সাস্টনিউজের খোলাকলম বিভাগে প্রকাশিত। এ বিভাগে প্রকাশিত সকল মতামতের দায়ভার লেখকের।  আপনার  সুচিন্তিত মতামত  কিংবা প্রবন্ধ (৩০০ শব্দের উর্ধ্বে) পাঠাতে পারেন  sustnews24@gmail.com ঠিকানায়

 

 

Share via email

ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংবাদ

এই সংবাদটি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ইং, শনিবার ১১টা ২০মিনিটে খোলা কলম, মতামত, সর্বশেষ ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের মন্তব্যগুলি স্বয়ঙ্ক্রিয় ভাবে পেতে সাবস্ক্রাইব(RSS) করুন। আপনি নিজে মন্তব্য করতে চাইলে নিচের বক্সে লিখে প্রকাশ করুন।

Leave a Reply

300 x 250 ad code innerpage

Recent Entries

120 x 200 [Sitewide - Site Festoon]
প্রধান সম্পাদক: সৈয়দ মুক্তাদির আল সিয়াম, বার্তা সম্পাদক: আকিব হাসান মুন

প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার প্রধান সম্পাদকের। Copyright © 2013-2017, SUSTnews24.com | Hosting sponsored by KDevs.com