360 x 130 ad code [Sitewide - Site Header]

ছিনতাই এবং একটি পুলিশ ফাঁড়ি

Share via email

সম্পাদকীয়:


ছিনতাই কিংবা সিলেটে ছিনতাই ব্যাপারটা কি নতুন কিছু? সাস্টিয়ানরা আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারটাও কি নতুন?

অতীতে সিলেট শহরে অপরাধকর্ম সংগঠনের হার কম থাকলেও বিগত পাঁচ বছরে সিলেটে অনেক ছিনতাইয়ের ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ছিনতাইয়ের শিকার স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি সাস্টিয়ানদের সংখ্যাও নিতান্ত কম নয়।

২০১৪ সালে ছিনতাইয়ের প্রকোপ অনেক বেড়ে যায়। বেশ কিছু কেস স্টাডি নিয়ে সাস্টনিউজে একটা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করা হয়। সে সময় ছিনতাই বেশি হত রিক্সাযাত্রীদের এবং অধিকাংশই ভোর বেলায়।  বাড়ি থেকে ফেরার পথে নতুন কেনা ডিএসএলআর ক্যামেরা, ল্যাপটপসহ দেড় লক্ষ টাকার জিনিস হারাতে হয় এক সাস্টিয়ানিকে। তবে সিএনজিতে ছিনতাইয়ের কেসও পাওয়া গেছে। তখন নিউজ করা হলেও কেউ এতটা গা করেনি কিংবা ‘আমরা সাস্টিয়ান’ তখনও এতটা সরগরম গ্রুপ হয়ে উঠতে পারেনি অথবা এই ইস্যুটা তখন অতটা “গরম” ইস্যু ছিল না।

তখনও টিলায় ছিনতাই হতো। এমনকি বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও কোন কোন কেসে অভিযুক্তদের মধ্যে সাস্টিয়ানদের নামও চলে আসে!

ছুরিকাঘাতের ব্যাপারটাও নতুন না। ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে পিএমই বিভাগের এবং ১৪ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে লোকপ্রশাসন বিভাগের  দুই শিক্ষার্থী আহত হয়। এরমধ্যে দ্বিতীয়টি সংগঠনের স্থান শাবিপ্রবির টিলা। লেডিস হলের পাশ থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে টিলার দিকে পালিয়ে যাওয়ার বেশ কয়েকটি ঘটনা আছে।  আবার এরমধ্যে ছিনতাইকারী আটকের ঘটনাও ঘটেছে শাবিপ্রবির আশপাশ থেকে।

মাস কয়েক ধরে শুরু হয় সিএনজি অটোরিকশায় লাগামহীন ছিনতাই।এর বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে গিয়ে পরিবহণ শ্রমিকদের সঙ্ঘবদ্ধ পরিকল্পিত আক্রমণের শিকার হন শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, স্থানীয় অনেক লোকজন সাস্টিয়ানদের এ ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে সমর্থন না দিয়ে এর বিরোধিতা করেন। পরবর্তীতে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করা হলেও কার্যত ছিনতাই থেমে থাকেনি।

সত্যিকার অর্থে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে শাবিপ্রবির প্রতিটি শিক্ষার্থী। এমনকি অজস্র সাস্টিয়ানের অতি ভালোলাগার স্থান কিলোপথও নিরাপদ নেই আজকাল। সেখানেও ছিনতাই সংগঠিত হবার দাবি করা হচ্ছে।

এবং সবশেষে আজকের ভর্তি পরীক্ষার্থী ছুরিকাহত হবার ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের গুরুত্বও গভীরভাবে অনুধাবিত হচ্ছে। সে ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

প্রশ্ন উঠেছে, যখন ছিনতাই যখন বেশী হচ্ছে তখন সন্ধ্যা এবং রাতে বাস বাড়ানোর পরিবর্তে কেন অনেক সময় বাস কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে? শিক্ষার্থীরা দাবি তুলেছেন ভাড়ার বাস কমিয়ে নতুন বাস ক্রয় করার। বাস সংখ্যা বৃদ্ধি এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

এমনটা ভাবার কারণ নেই যে এসকল ছিনতাইয়ের শিকার শুধু সাস্টিয়ানরাই হচ্ছেন। তবে এটা অবশ্যই সত্যি যে সাস্টিয়ানরা ছিনতাইকারীদের অন্যতম প্রধান টার্গেট। এর কারণ হতে পারে সাস্টিয়ানদের সাথে থাকা ল্যাপটপ কিংবা দামী স্মার্টফোন।

এসবের দায় এড়াতে পারে না পুলিশ প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বিশবিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে একটি পুলিশ ব্যারাক থাকার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর একটার পর একটা এমন দুর্ঘটনা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে যে সুসম্পর্ক থাকার কথা তা বিনষ্ট হচ্ছে। আস্থাহীনতা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে একথা কোনভাবেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক প্রশাসন। এখন সময় একতাবদ্ধ হবার। সকল ক্ষেত্রেই প্রশাসন বিরোধিতা বা প্রশাসন বিরোধী মনোভাব কতটুকু কল্যাণকর সেটা ভাববার বিষয়।

এখন প্রশ্ন করার সময় নয়, দোষারোপ বা সমালোচনা করার সময় নয়। নানা ইস্যুতে বিভেদ সৃষ্টির সময় নয়। ভর্তি পরীক্ষার আর বাকি ১ দিন। ইতোমধ্যে সাস্টিয়ানদের মধ্য থেকে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবী দল গঠনের উদ্যোগ নিতে দেখা যায়। যা আশার আলো দেখায়। যার যার অবস্থান থেকে পুলিশ প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সাস্টিয়ান সকলে মিলেমিশে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলা করে শাবিপ্রবির সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

সেই সাথে “এগুলো কি শুধুই নিছক দুর্ঘটনা নাকি কোন কুচক্রী মহল শাবিপ্রবির বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে? তাদের উদ্দেশ্য কী হতে পারে?  এভাবে ভীতি ছড়িয়ে তাদের কী লাভ থাকতে পারে? এসব কি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা অর্থাৎ আরও বড় কিছু থেকে চোখ ফিরিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা?” এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এবং খতিয়ে দেখা দরকার।

Share via email

ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংবাদ

এই সংবাদটি ১৭ নভেম্বর ২০১৭ইং, শুক্রবার ০টা ২৩মিনিটে শীর্ষ সংবাদ, সম্পাদকীয়, সর্বশেষ ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের মন্তব্যগুলি স্বয়ঙ্ক্রিয় ভাবে পেতে সাবস্ক্রাইব(RSS) করুন। আপনি নিজে মন্তব্য করতে চাইলে নিচের বক্সে লিখে প্রকাশ করুন।

Leave a Reply

300 x 250 ad code innerpage

Recent Entries

120 x 200 [Sitewide - Site Festoon]
প্রধান সম্পাদক: সৈয়দ মুক্তাদির আল সিয়াম, বার্তা সম্পাদক: আকিব হাসান মুন

প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার প্রধান সম্পাদকের। Copyright © 2013-2017, SUSTnews24.com | Hosting sponsored by KDevs.com