360 x 130 ad code [Sitewide - Site Header]

শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা গণপরিবহনে কতটুকু নিরাপদ?

Share via email
খোলা কলম:

তিন ছিনতাইকারী গ্রেফতার এবং আমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা:

নভেম্বর ১৪, মঙ্গলবার রাত ১১টায় টিউশন থেকে ফিরে সুবিদবাজার সিএনজির জন্য অপেক্ষা করি। দু-তিনটা সিএনজি কে সিগনাল দেয়ার পর হটাৎ একটা খালি সিএনজি আসে।  ওটাকে প্রথমে সিগনাল দিলে সে দাঁড়ায় না। তারপর একটু সামনে গিয়ে আমাকে ডাকে, “মামা আসেন।” আমি এর কাছে গিয়ে প্রথমে নাম্বার প্ল্যাট দেখি। ওটাতে নাম্বার প্ল্যাট নেই। তারপর জিজ্ঞাস করি, “আপনি খালি যাচ্ছেন কেন?” প্রতিউত্তরে ড্রাইভার বলে, “মামা আমি বাসায় যাবো তাই খালি চলে যাচ্ছি।”

ওর এই কথার ভিত্তিতে আমি সিএনজি টাতে উঠি। রাস্তায় অনেক যাত্রীর সিগনাল পেলেও সে দাঁড়ায়নি। মদিনা মার্কেট এসে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র একজন ছেলে সিএনজি’র সামনে উঠে। তারপর সুরমা গেইট সংলগ্ন কফিরাজ রেস্টুরেন্ট এর সামনে তিনটা ছেলে সিগনাল দেয়। ওদের দেখতেই কেমন সন্দেহভাজন মনে হচ্ছিল। আমি তখন একা পেছনে বসে আছি। সে তিনজনের একজন ডানে ঘুরে এসে সিএনজি’র পেছনে ডান অংশে উঠে। একজন সামনে আর অন্যজন বাঁয়ে উঠে। ঘটনাক্রমে আমি মাঝখানে পড়ে যাই। তারপর একটু সামনে গিয়ে সিএনজি ড্রাইভার কে থামতে বলে আমি ওদের ঠেলে সামনের একজনকে(ওদের তিনজনের একজন) পেছনে পাঠিয়ে নিজেই সামনে চলে আসি। এরপর টানাটানির অনেক কাহিনী ঘটে।

সিএনজি যখন তেলের পাম্পটার সামনে আসে তখন আমি ড্রাইভার কে  বললাম, “সামনের পুলিশ চেকপোস্টে গাড়ি থামান।”   ড্রাইভার বললো, “আমার সমস্যা আছে মামা”। আর ঐ সময়টাতে পুলিশ চেকপোস্ট এ থাকলেও তাঁরা লাইট দিয়ে দেখেছিল গাড়ীর নাম্বার প্ল্যাট নেই। কিন্তু ঐ সিএনজিটাকে তাঁরা থামায় নি।

এরপর গেইটে আসার পর ও সে দাঁড়াতে চায় না, পেছন থেকে একটা সিএনজি এসে ঐ সিএনজি টার সামনে যাত্রী নামাতে দাঁড়ালে ওই সিএনজি টা আটকে যায়। আমি নেমে গিয়ে দৌঁড়ে যাই দায়িত্বরত সার্জেন্ট “নারায়ণ”- এর কাছে আর বলি ঐ গাড়ীটাকে চেক করেন। এর মধ্যেই সন্দেহভাজন দের একজন নেমে আমাদের ক্যাম্পাসের দিকে চলে আসে আর অটোর পেছনে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকে।

তারপর সে এস.আই কনস্টেবল নিয়ে এসে সাথে সাথেই দুজন কে গ্রেফতার করে আর বাকি যে জন পালিয়েছিল তাকে খুঁজতে আমার সাথে একজন কনস্টেবল পাঠায়। আমরা এসে দেখি সে অটোর পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। এরপর তাকেও ধরা হল। যে ক্যাম্পাসের দিকে এসেছে সে আমাদের ক্যাম্পাসেই অটো চালাতো। এদের একজন কে আমাদের ৩/১ এর একভাই থাপ্পর মারে। সাথেই সাথেই পুলিশ সার্জেন্ট নারায়ন উনাকে (যিনি থাপ্পড় মেরেছেন) পালটা ধরে ফেলে কেন ছেলেটাকে মারলো?

যে তিনজনকে পুলিশ ধরেছে তাদের জালালাবাদ থানায় নিয়ে গেল।  ঘটনার পর প্রক্টর জহীর স্যারকে জানাই। স্যার আমি জানানোর আগেই তথ্য পায় (স্যারের ড্রাইভার ঘটনাস্থলে ছিল)। রাত তখন ১১.৩০ মিনিটের কাছাকাছি।

তারপর ঠিক রাত ১২টার দিকে প্রক্টর স্যার আমায় ফোন দিয়ে বললো থানায় যেতে। আমি গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখি পুলিশ আর সে তিনজন আড্ডা দিচ্ছে। থানায় কর্তব্যরত যে অফিসার ছিলেন তিনি বললেন, “দেখুন, এদেরকে সন্দেহভাজন হিসেবে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। এরা দুজন কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের হেল্পার, আর একজন আপনাদের ক্যাম্পাসেই অটো চালাতো। তাদের জিজ্ঞাসা করে তেমন কিছু পাওয়া নি।”

আমি বললাম, “স্যার এতোকিছু তাহলে এমনিতেই ঘটছে? এদের আচরণ এখনো সন্দেহজনক, আর এরা এখানে এমন ভাব নিচ্ছে যেন এরা কিছুই জানেনা ইত্যাদি।”

তারপর আর বোঝার অবকাশ নেই যে, কিছুক্ষণের মধ্যেই এদেরকে চা খাইয়ে ছেড়ে দিবে। আজ সকালে খবর পেলাম ওদের ছেড়ে দিয়েছে জালালাবাদ থানা পুলিশ।

শেষ পর্যন্ত সে অফিসার কে বললাম, “আমি সিনএজিকে দাড়াতে বলি, সে দাঁড়ালো না, আপনার সার্জেন্ট ও সে সিনএনজি টাকে চেক করার জন্য থামায় নি, বরং আমিই দৌঁড়ে গিয়ে বলি।  আর গাড়ীটার নাম্বার প্ল্যাট নেই। আপনি তাকেই কিছুই বলছেন না? তিনি মুখে রাজকীয় হাসি হেসে উত্তর দিলেন, “ওসব পরে এটা ঠিক করে নিবে, আর আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরা ভুল নিউজ দিচ্ছে, আমরা গতকাল যে দুজনকে ধরেছি তাদের সাথে কোন ছুরি পাইনি, ওটা সিএনজিতে ছিল, গাড়িতে একটা দুইটা আর্মস থাকতেই পারে। ওদের বউ বাচ্চা এসে অনেক কান্নাকাটি করেছে, আমার খুব মায়া লেগেছে তাদের জন্য, তবুও আমি চালান দিয়েছি।” তিনি ফের বলে, “সেদিন আন্দোলনে তো তুমিও ছিলা?” তারপর থানা থেকে চলে আসি। -এটা ছিল মূল ঘটনা।

গতকদিন আগে ইংলিশ অলিম্পিয়াডের প্রোগ্রাম শেষে বিবিএ (৩/১) বুশরা নামের এক আপুর পার্টস হারিয়ে যায় গেইটে। রাত সাড়ে নয়টা, আমি টিউশন থেকে ফেরার পথে দেখি উনি গেইটে দাঁড়িয়ে  কান্নাচোক্ষ হয়ে আছে। ঘটনা জানতে গেলে উনি বিস্তারিত  বলেন। উনার সন্দেহের মধ্যে ছিল গেইটে চিপ্স বিক্রি করা একভদ্রলোক। সিসিফুটেজ সংগ্রহ করে দেখি সে চিপ্স বিক্রিতা ভদ্রলোকই পার্টস টা নিয়েছিল। গার্ড দিয়ে সে লোকের সন্ধান করি আর উনাকে ধরে আনা হয় এবং পার্টস হারানো ব্যাক্তির জিনিস তাকে ফেরত দেই।
সবকিছুর পরও কিছু প্রশ্ন থেকে যায়-
-আমি প্রত্যক্ষভাবে কোন প্রশাসন কে দায়ী করছি না; না পুলিশ, ডিবি কিংবা র‍্যাব। ভাল খারাপ সব যায়গাতেই আছে।  এইযে এতো কথা হল সে পুলিশ অফিসারের সাথে, সে কি এসবের কিছুই জানেনা?
– সিএনজিটার নাম্বারপ্ল্যাট নেই। এটাকেই হাসি দিয়েই ছেড়ে দেয়ার নিয়ম কি তাকে তার ডিফেন্সই শিখিয়েছে?
– গ্রেফতারকৃত তিনজনের একজন আমাদের ক্যাম্পাসেই অটো চালায়। এর মানে কী? ক্যাম্পাস থেকে কেউ বের হচ্ছে আর এটাই পরিণত হচ্ছে ওদের টার্গেটে।
– পুলিশ তাদের এতো প্রশ্রয় দিচ্ছে কেন? তাদের ও সংসার আছে, কিছু ভাগ দরকার এইজন্য?
– কোন একটা ঘটনা ঘটলে পুলিশ আগ থেকেই তার তথ্য পেয়ে যাচ্ছে, কোন সিএনজিতে ঘটনাটা ঘটেছে সেটাও তারা জেনে যায়। এসব কে দেয় তাদের কাছে? ছিনতাই সংঘের সাথেই নিশ্চয় তাদের যোগাযোগ রয়েছে?
– সেদিন আন্দোলন হল, থানায় গিয়ে খবর নিয়ে দেখলাম তাতে কার নামেই মামলা হয়নি, সম্ভবত আমাদের প্রশাসন বলেছেন, মামলা হয়েছে” -এসব নিয়ে পত্রিকায় লেখালেখিও হয়েছে।
– আমরা সেদিন রাস্তা অবরোধে নামবো, সেটা বাহিরের মানুষগুলো কিভাবে জানলো? নিশ্চয় আমাদের মধ্যেই গুপ্তচর রয়েছে। আর তারা সেদিন যেভাবে পালটা এট্রাক করেছিল তাতেই বুঝা ই যায় যে, এরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল।
– গতকাল রাতে স্পটে অনেকেই ছিল, যে ভাই তাদের একজন কে থাপ্পর দেয় উনাকে দুজন ইনকাউন্টার করে, আশ্চর্য ব্যাপার হচ্ছে, সে ভাইয়াকে সেখানে সাপোর্ট দেয়ার মত কেউ ছিল না, পুলিশের এসআই নারায়ন উনাকে ধরে বসএ যে তাকে মারলো কেন? সবাই চুপ। যতজন সাস্টিয়ান সামনে ছিল সবাই কি পারতো না সেখানে উনার পাশে দাঁড়িয়ে সে তিনজনকে ধোলাই দিতে?
– যার পার্টাস উদ্ধার করে দিয়েছি,  উনার জিনিসটা গেইটে চিপ্স বিক্রি করা একজনই নিয়েছে। এর মানে কি দাড়াঁছে? আমাদের এখানেই ওরা ঘুরছে।

 

লেখক পরিচিতি: দেলোয়ার হোসাইন, শিক্ষার্থী,শাবিপ্রবি

সাস্টনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডট কমের খোলা কলম বিভাগে প্রকাশিত সকল মতামত লেখকের নিজের। প্রকাশিত মতামতের জন্য সাস্টনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনভাবেই দায়ী না।

পাঠক, আপনিও শাবিপ্রবি সম্পর্কিত আপনার প্রবন্ধ (ন্যূনতম ৩০০ শব্দ), মতামত আমাদের কাছে লিখে পাঠাতে পারেন, তুলে ধরতে পারেন সমস্যা ও সমাধান। আমাদের কাছে লিখে পাঠান  sustnews24@gmail.com ঠিকানায়।

Share via email

ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংবাদ

এই সংবাদটি ১৫ নভেম্বর ২০১৭ইং, বুধবার ২২টা ২১মিনিটে খোলা কলম, মতামত, সর্বশেষ ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের মন্তব্যগুলি স্বয়ঙ্ক্রিয় ভাবে পেতে সাবস্ক্রাইব(RSS) করুন। আপনি নিজে মন্তব্য করতে চাইলে নিচের বক্সে লিখে প্রকাশ করুন।

Leave a Reply

300 x 250 ad code innerpage

Recent Entries

120 x 200 [Sitewide - Site Festoon]
প্রধান সম্পাদক: সৈয়দ মুক্তাদির আল সিয়াম, বার্তা সম্পাদক: আকিব হাসান মুন

প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার প্রধান সম্পাদকের। Copyright © 2013-2017, SUSTnews24.com | Hosting sponsored by KDevs.com