360 x 130 ad code [Sitewide - Site Header]

ধূমপানের কবলে শাবিপ্রবির সবুজ প্রাঙ্গণ

Share via email

no-smoking-sust-logo-banner

তাসনিমা মুকিত রিহা:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শিক্ষাঙ্গনজুড়ে চলছে প্রকাশ্যে ধূমপান। নেই কোন প্রকার জরিমানা বা শাস্তির বিধান। ফলে শিক্ষাঙ্গন জুড়ে বিরাজ করছে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। বিপাকে পড়তে হচ্ছে অধূমপায়ী শিক্ষার্থীদের।

উল্লেখ্য ২০১৫ মার্চ ১৮ তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মো এমদাদুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে শাবিপ্রবি প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে ধূমপানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। প্রজ্ঞাপনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, “শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে উন্মুক্ত স্থানে ধূমপানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। শিক্ষাথীদেরকে ক্যাম্পাসের উন্মুক্ত স্থানে ধূমপান না করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডি মনে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ ব্যাপারে সহযোগিতা প্রয়োজন।”

উন্মুক্ত স্থানে ধূমপান করলে তার শাস্তি কি হবে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রক্টর মো এমদাদুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, যেহেতু প্রক্টরীয় পরিষদের সিদ্ধান্তে উন্মুক্ত স্থানে ধূমপানের ব্যাপারে কোনো শাস্তির বিধান রাখা হয়নি, সেহেতু কেউ উন্মুক্ত স্থানে ধূমপান করলে তাকে প্রচলিত আইনে শাস্তি পেতে হবে। এই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে ধূমপান প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। টং গুলোতেই বিড়ি-সিগারেট বিক্রির উপর প্রশাসনের কঠোর নজরদারি লক্ষ করা গিয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার মুখেও বন্ধ ছিল না ধূমপায়ীদের ধূমপান। সাধারণ শিক্ষার্থীরা শিক্ষাঙ্গনের টিলাগুলোকে পরিণত করেছিলেন তাদের “স্মোকিং জোন” হিসেবে। এদিকে টং এর বিক্রেতারাও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে বিক্রি করেছেন ধূম্রশলাকা। কিন্তু তার পরও অন্তত ক্যাম্পাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধূমপায়ী শিক্ষার্থীরা। কিন্তু সম্প্রতি শাবিপ্রবির সবুজ প্রাঙ্গণ জুড়ে চলছে প্রকাশ্যে ধূমপান। আজকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসেও শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্যে ধূমপান করতে লক্ষ্য করা যায়।

ছাত্রদের পাশাপাশি কতিপয় ছাত্রী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দকেও শিক্ষাঙ্গনের যত্রতত্র ধূমপান করতে দেখা যাচ্ছে। ফলে শাবিপ্রবির সবুজ প্রাঙ্গণ আবারও হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। এবং বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সচেতন ও পরিবেশবাদী শিক্ষার্থীবৃন্দ। এ বিষয়ে ক্যাম্পাসের কিছুসংখ্যক ধূমপায়ী শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায় বিষয়টি নিয়ে তাদের মতামত। তাদের ভাষ্য মতে, ‘ক্যাম্পাসে ধূমপায়ী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। বরং তুলনামূলক বেশিই বলা চলে। এমনকি শিক্ষকদের একটা বিরাট অংশও ধূমপানে অভ্যস্ত। এমতাবস্থায় প্রশাসন চাইলেই জিনিসটা বন্ধ করা সম্ভব নয়।’ অন্যদিকে অপর এক শিক্ষার্থী জানালেন তার ক্ষোভ, নিজের ভাষায়,

“প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা দিলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় কেবল আমাদের মত সাধারণ শিক্ষার্থীদের। আমাদেরই সিগারেট খেতে ওই টিলায় দৌড়ানি দেয়া লাগে। আর স্যারেরা নিজেদের রুমে বসেও সিগারেট টানার স্বাধীনতা রাখেন এমনকি অফ পিরিয়ডে টং-এ বসেও সিগারেট টানতে দেখা যায় তাদের। তাহলে আমাদের উপর এত নিষেধাজ্ঞা কেন? যদি নিষেধাজ্ঞা দিতেই হয় তবে ক্যাম্পাসে আমাদের জন্য একটি ‘স্মোকিং জোন’ ঘোষণা করা হোক।”

শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের মত একটি সবুজেঘেরা প্রকৃতির অভয়ারণ্যে এরকম ‘স্মোকিং জোন’ বা ‘ধূমপান বলয়’ এর যৌক্তিকতা কতটুকু, এসম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন “গ্রীণ এক্সপ্লোর সোসাইটি”র প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাজন বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থাগুলোর নজর রয়েছে আমাদের ক্যাম্পাসের উপর শুধুমাত্র এর জীববৈচিত্র্যের জন্য। এমতাবস্থায় এধরণের ধূমপান বলয় আমাদের ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং সৌন্দর্যই কেবল নষ্টই করবে না এমনকি এর পাশাপাশি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”

শিক্ষাঙ্গনের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়  ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনার পরিচালক অধ্যাপক ডক্টর মো রাশেদ তালুকদারের সাথে। এ সময় তিনি সাস্টনিউজকে বলেন,

‘আমরা সবসময় চাই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় একটি সম্পুর্ণ ধূমপানমুক্ত শিক্ষাঙ্গন হোক। উন্মুক্ত স্থান বা বদ্ধ স্থান বলে কোন কথা না। আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সকল শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আহ্বান জানাচ্ছি কেউ যেন ধূমপান না করেন। কেননা ধূমপান কারো জন্যই ঠিক না; স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটা ছাত্রছাত্রীদের জন্য ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনার পরিচালক হিসেবে আমার উপদেশ। এখন কেউ যদি নাই মানে, তবে (অন্তত) তার জন্য যেন অন্যরা ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সে দিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।

এখন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা হিসেবে আট-দশ হাজার শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো যেহেতু আমার পক্ষে সম্ভব না, সেহেতু আমি প্রতিটি বিভাগ এবং টংগুলোতে চিঠি পাঠাতে পারি, এবং সকল শিক্ষকদের আহ্বান করতে পারি যেন টং বা অন্যান্য উন্মুক্ত স্থানে তাঁরা যদি কোন ছাত্রছাত্রীদের ধূমপান করতে দেখে তবে যেন নিষেধ করেন। কেননা টং এর মালিক বা অন্য কেউ বললে একজন শিক্ষার্থী কথাটা গুরুত্ব দিবে না, কিন্তু একজন শিক্ষক যখন বলবে, তখন সে অবশ্যই কথাটা গুরুত্বের সাথে নিবে।’

শাবিপ্রবিতে ধূমপানে বলয় করে দেবার ব্যাপারে তিনি সাস্টনিউজকে বলেন,

‘ক্যাম্পাসে ‘স্মোকিং জোন’ করে দেয়ার অর্থ হচ্ছে আমি যে জিনিসটা না করছি, আবার সেই ধূমপানের জন্যই উৎসাহিত করছি বলে মনে হতে পারে অনেকের কাছে। সুতরাং এ ধরনের কোন ‘জোন’ করার কোন প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমি ব্যাক্তিগতভাবে মনে করি না, এবং উচিৎও না। জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে ছাত্রছাত্রীরা আমাকে দেখলে বা আমার সামনে কখনো ধূমপান করে না। কিন্তু অনেক শিক্ষকরা ধূমপান করেন, এবং আমাকে দেখলেও অনেক সময় তা সরান না। একজন ছাত্রকে যখন আমি একটা ভালো কথা বলব, তখন অবশ্যই শিক্ষক হিসেবে আগে আমাকে ভালো হতে হবে। তাই আমি সকল শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলব তাঁরা যেন এক্ষেত্রে আরো বেশি সচেতন হন। যদি ধূমপান করেনও তবে যেন তা নৈতিকতা বজায় রেখে করেন। আর আমি বলব ধূমপান ছেড়ে দেয়াই উত্তম। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এবং সবার জন্যই এতে উপকার হবে।’

প্রক্টর ডক্টর জহির উদ্দিন আহমদকে শিক্ষাঙ্গনে ধূমপান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হলে তিনি শিক্ষাঙ্গনকে ধূমপানমুক্ত রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সাথে দ্রুতই অন্তত টং গুলোকে ধূমপানমুক্ত করার ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বাস দেন। এছাড়া, শুধু ধূমপান নয় ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব ধরনের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতেও সকলকে অনুরোধ জানান তিনি।

Share via email

ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংবাদ

এই সংবাদটি ২০ আগস্ট ২০১৭ইং, রবিবার ২৩টা ৫৩মিনিটে অনুসন্ধানমূলক, শীর্ষ সংবাদ, সর্বশেষ ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের মন্তব্যগুলি স্বয়ঙ্ক্রিয় ভাবে পেতে সাবস্ক্রাইব(RSS) করুন। আপনি নিজে মন্তব্য করতে চাইলে নিচের বক্সে লিখে প্রকাশ করুন।

মন্তব্যসমূহ

120 x 200 [Sitewide - Site Festoon]
প্রধান সম্পাদক: সৈয়দ মুক্তাদির আল সিয়াম, বার্তা সম্পাদক: আকিব হাসান মুন

প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার প্রধান সম্পাদকের। Copyright © 2013-2017, SUSTnews24.com | Hosting sponsored by KDevs.com