360 x 130 ad code [Sitewide - Site Header]

একুশ বছর পর আবারও রানার আপ

Share via email


দুর্জয়:

পঞ্চদশ আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রানার আপ হয় গণিত বিভাগ। তবে এটিই তাদের প্রথম অংশগ্রহণ রানার আপ হওয়া নয়, একুশ বছর আগে প্রথম আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতাতেও রানার আপ হয়েছিল গণিত বিভাগ।

১৯৯৬ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিবেট এন্ড কালচারাল ক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা। প্রথম বারের প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল অর্থনীতি বিভাগ ও গণিত বিভাগের মাঝে। সনাতনী পদ্ধতির বিতর্কটির বিষয় ছিল ‘দর্শক নয় পরিচালকরাই নিম্নমানের বাংলা ছবি তৈরীতে মূখ্য ভূমিকা রাখে।’ পক্ষদলে ছিল গণিত বিভাগ এবং বিপক্ষ দলে ছিল অর্থনীতি বিভাগ। গণিত বিভাগের দলটির প্রথম বক্তা ছিলেন সামসুন নাহার পলি, দ্বিতীয় বক্তা ছিলেন আনোয়ার হোসেন এবং দলনেতা ছিলেন রাহাত শামস। প্রথম আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় গণিত বিভাগকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিল অর্থনীতি বিভাগ

এরপর ক্রমান্বয়ে ডি অ্যাণ্ড সি ক্লাব থেকে জন্ম নেয়া সাস্ট ডিবেটিং ক্লাব ও পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে শাহজালাল ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে বিশ বছরে আরও তেরোটি আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় একাধিকবার প্রাক-চূড়ান্ত পর্ব ও শেষ আটে জায়গা করে নিলেও চূড়ান্ত পর্বে আর যাওয়া হয় নি বিভাগটির। তবে থেমে থাকে নি বিভাগের বিতর্ক চর্চা। গণিত বিভাগের শাহরিয়া ফেরদৌস নওরীন, ধ্রুব রঞ্জন রায়, উম্মে মরিয়ম মৌসুমী, মো শাহিনুর রহমান সহ অসংখ্য বিতার্কিক বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিতর্কের নেতৃত্বে ছিলেন

বিভাগটির বিতর্কের প্রতি ভালবাসা ফুটে উঠত বিভিন্ন কার্যক্রমে। অন্যান্য বিভাগগুলো শুধুমাত্র ক্রীড়া সপ্তাহ পালন করলেও ২০১১ সাল থেকে গণিত বিভাগ আয়োজন করে ক্রীড়া ও বিতর্ক উৎসব (ক্রীবিউ)। এখানে প্রতিটি সেমিস্টারের বিতার্কিকরা যুক্তির প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। অনুষ্ঠিত হয় বারোয়ারী বিতর্কও। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর ২১ তারিখে বিভাগটিতে গঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র বিভাগ ভিত্তিক বিতর্ক সংগঠন ডেল্টা ডিবেটার্স ফ্যাক্টরি, যা একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বিভাগভিত্তিক সংগঠনও বটে ক্লাব গঠনের পর বিভাগটির বিতর্ক চর্চা অরো গতিশীল হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পঞ্চদশ আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিভাগটি হতে দুটি দল অংশগ্রহণ কর। ‘ম্যাথম্যাটিকস অনুষদ চাই’ ও ‘ম্যাট ডেল্টা স্কোয়াড’ দু’টি দলই প্রাক চূড়ান্ত পর্বে উন্নীত হয় এবং একে অপরের মুখোমুখি হয়

প্রাক-চূড়ান্ত পর্বে দলগত পর্বের শীর্ষ দল ‘ম্যাথম্যাটিকস অনুষদ চাই’ কে পরাজিত করে চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হয় ‘ম্যাট ডেল্টা স্কোয়াড’। তবে চূড়ান্ত পর্বে খনি কৌশল বিভাগের কাছে পরাজিত হয়ে আবারও রানার আপেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বিভাগটিকে। চূড়ান্ত পর্বের বিতর্কের বিষয় ছিল ‘এই সংসদ বিশ্বাস করে বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব।’ সরকারী দল ছিল খনি কৌশল বিভাগ, এবং বিরোধী দল ছিল গণিত বিভাগ। তবে সম্পূর্ণ প্রতিযোগিতার শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হন ‘ম্যাট ডেল্টা স্কোয়াড’ এর বিতার্কিক জিনাত আফরোজ। গণিত বিভাগের ‘ম্যাট ডেল্টা স্কোয়াড’ এর সদস্যরা ছিল ফারজানা আক্তার সূচি (চতুর্বিংশ ব্যাচ), জিনাত আফরোজ (চতুর্বিংশ ব্যাচ), মেহেদী হাসান রানা (চতুর্বিংশ ব্যাচ), সৈয়দ ইমাম মেহেদী নিহাদ (চতুর্বিংশ ব্যাচ), নাসরিন তানিয়া (পঞ্চবিংশ ব্যাচ)

বিতর্ক সংগঠন গঠনের দেড় বছরের মধ্যেই অপর তিনটি প্রতিযোগিতার দু’টির প্রাক-চূড়ান্ত উত্তীর্ণ হয়েছিল বিভাগ ভিত্তিক সংগঠনটি ক্লাব গঠনে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল বিভাগের অষ্টদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী, গণিত সমিতির প্রাক্তন সহ-সভাপতি ও প্রাক্তন বিতার্কিক মীর আন্-নাজমুস সাকিবের তিনি ক্লাবের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলেন, ‘যদিও আন্তঃবিভাগ বিতর্কের চূড়ান্ত পর্বে পরাজিত হয়েছে গণিত বিভাগীয় দল, তবুও নবীন ও অনভিজ্ঞ একটা দলের জন্য এটা কম পাওয়া নয় আমরা আমাদের দলের সাফল্যে গর্বিত। গণিত বিভাগে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চর্চা হয়ে আসছে যা পূর্ণতা পায় ডিডিএফ এর হাত ধরে। একটা বিভাগভিত্তিক নবীন বিতর্ক সংগঠন গঠনের মাত্র দেড় বছরের মাথায় এতগুলো সাফল্য লাভ আমাদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে বিতর্ক জগতে সুউচ্চ আসনে যাওয়ার। বর্তমানে নিয়মিতভাবে নিজেদের মধ্যে এবং ক্যাম্পাস ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিতর্ক সংগঠনগুলোর সাথে প্রীতি ও অনুশীলনমূলক বিতর্ক আয়োজন করছে তারা। পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রশিক্ষণেও অংশ নিচ্ছে এই ক্লাবের রয়েছে সুদক্ষ বোর্ড অব এলিটস, বোর্ড অব প্রেসিডিয়াম ও বোর্ড অব এক্সিকিউটিভস আমি আশা করছি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরাও বিতর্কে আগ্রহী হবেন এবং ডিডিএফ এর মাধ্যমে বিতর্ক চর্চাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন ক্যাম্পাস ও জাতীয় পর্যায়ের বিতর্কে সংগঠনটি বিভাগের মুখ উজ্জ্বল করবে বলে আত্মবিশ্বাসী আমি।’

সংগঠনটির বর্তমান মহাসচিব রীনা পাল মনে করেন ক্লাবটির মাধ্যমে গণিত বিভাগ থেকে ভালো মানের বিতার্কিক সৃষ্টি হবে। তিনি আরো বলেন, ‘বিতর্ক তো গণিত বিভাগের ঐতিহ্য, সেই ঐতিহ্যই ফিরে আসবে ডিডিএফ এর মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর একজন শিক্ষার্থী নানারকম সাংগঠনিক কাজে নিজেকে জড়াতে চায়, যেটা অবশ্যই ভালো কিন্তু মাঝেমাঝে ক্যারিয়ারের চেয়েও সংগঠনকে বেশি গুরুত্ব দিতে যেয়ে কারো কারো ক্যারিয়ারেরই বেশ ক্ষতি হয়ে যায়। এদিকে ডিডিএফ বিভাগভিত্তিক সংগঠন হওয়ায় সকল শিক্ষার্থী একই বিভাগেরতাই সবার ক্লাস-পরীক্ষার সূচী মাথায় রেখেই সবরকম কাজ করা হয়। এটাই আমাদের ক্লাবের সবচেয়ে ভালো দিক।’

সংগঠনটি এ পর্যন্ত একটি অন্তঃক্লাব বিতর্ক প্রতিযোগিতা, একটি প্লানচ্যাট বিতর্ক, একটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিতর্কের আয়োজন করেছে। সামনে নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি একটি বিজ্ঞানভিত্তিক বিতর্ক উৎসব করার ইচ্ছা আছে সংগঠনটির। 

বিভাগ ভিত্তিক সংগঠনের হাত ধরে গণিত বিভাগে বিতর্ক চর্চা আরো শক্তিশালী হোক। গড়ে উঠুক যুক্তিবাদী একদল শিক্ষার্থী।

Share via email

ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংবাদ

এই সংবাদটি ১ আগস্ট ২০১৭ইং, মঙ্গলবার ১৪টা ১৬মিনিটে গণিত (MAT), ডিডিএফ (DDF), বিভাগীয়, সংগঠন, সর্বশেষ ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের মন্তব্যগুলি স্বয়ঙ্ক্রিয় ভাবে পেতে সাবস্ক্রাইব(RSS) করুন। আপনি নিজে মন্তব্য করতে চাইলে নিচের বক্সে লিখে প্রকাশ করুন।

মন্তব্যসমূহ

120 x 200 [Sitewide - Site Festoon]
প্রধান সম্পাদক: সৈয়দ মুক্তাদির আল সিয়াম, বার্তা সম্পাদক: আকিব হাসান মুন

প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার প্রধান সম্পাদকের। Copyright © 2013-2017, SUSTnews24.com | Hosting sponsored by KDevs.com