360 x 130 ad code [Sitewide - Site Header]

শাবিপ্রবি এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেন বঞ্চিত হবেন?

Share via email

অনেক আগে এই বিষয়টি নিয়ে কিছু কথা বলেছিলাম। কেউ তেমন গুরুত্ব দেননি। আমি জানি এখনও কেউ দিবে না। কিন্তু যখন চোখের সামনে একজন মেধাবী ছাত্র বা ছাত্রী, যার আর সকল যোগ্যতা থাকার পরেও শুধুমাত্র বাংলাদেশের একটি বিশেষ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসেছে বলে অস্ট্রেলিয়ার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি মাস্টার্স, পিএইচডি’তে ভর্তি এবং স্কলারশীপের সুযোগ পায় না, তখন তা মেনে নিতে পারি না। আমরা যারা বাংলাদেশ থেকে রিসার্চ স্টুডেন্টস আনতে চাই, তাদের জন্য এটি একটি বড় সমস্যা।

যদি কোন দেশের এডুকেশান লেভেল অস্ট্রেলিয়ার এডুকেশান লেভের সমান না হয়, তাহলে সে দেশের মাস্টার্স ডিগ্রীধারী একজন ছাত্র তার দেশের মাস্টার্স ডিগ্রী ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়াতে সরাসরি পিএইচডি’তে ভর্তি এবং স্কলারশীপের সুযোগ পাবে না।

আমার জানামতে গত দুই বছরে কমপক্ষে ২০ জন ছাত্রছাত্রী এই সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে (যারা শুধুমাত্র ই-মেইলে যোগাযোগ করেছে তাদের সংখ্যা এখানে দিলাম)। আমি নিজে বেশ কয়েকবার কয়েকজন ছাত্রকে অস্ট্রেলিয়া আনতে এই সমস্যার ভেতর দিয়ে গিয়েছি। আজ এটি নিয়ে একটু বিস্তারিত লিখি, দেখি যাদের হাতে কিছু করার ক্ষমতা আছে তাদের চোখে পড়ে কী না!

অস্ট্রেলিয়াতে পড়াশুনা বা স্কলারশীপের জন্য যারা এপ্লাই করে, তাদের এপ্লিকেশান প্রথমেই তারা কোন দেশ থেকে এসেছে, কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসেছে, তাদের এডুকেশান লেভেল অস্ট্রেলিয়ার এডুকেশান লেভেলের সমান কীনা- তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, যদি কোন দেশের এডুকেশান লেভেল অস্ট্রেলিয়ার এডুকেশান লেভের সমান না হয়, তাহলে সে দেশের মাস্টার্স ডিগ্রীধারী একজন ছাত্র তার দেশের মাস্টার্স ডিগ্রী ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়াতে সরাসরি পিএইচডি’তে ভর্তি এবং স্কলারশীপের সুযোগ পাবে না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি কেমন অসামঞ্জস্যপূর্ণ তা একটু বিস্তারিত ব্যাখ্যা করি। অস্ট্রেলিয়া কোয়ালিফিকেশান ফ্রেইমওয়ার্কের অধীনের এক নীতিমালায় অস্ট্রেলিয়া সরকার বাংলাদেশের সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে তিনটি ভাগে ভাগ করেছে।

সেকশন ১- মূলত ১৯৭১ সালের পূর্বে প্রতিষ্টিত সকল বিশ্ববিদ্যালয় এই সেকশনের অধীনে আছে। প্রথম ক্যাটাগরিতে রাখার কারণ হিসাবে দুটি বিষয়কে বিবেচনায় আনা হয়েছে –

  • কোয়ালিফাইড শিক্ষক, যাঁরা ভালো মানের শিক্ষা এবং গবেষণা কার্যক্রম নিশ্চিত করেন।
  • প্রতিযোগিতা মূলক ভর্তি পরীক্ষা, যার মাধ্যমে দেশ সেরা ছাত্রছাত্রীদের এই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ কুয়েট, চুয়েট, ডুয়েট, রুয়েট, কৃষি, বুয়েট, জাহাঙ্গীরনগর, চট্রগ্রাম, রাজশাহী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এই সেকশানে স্থান পেয়েছে।

ছাত্র বা ছাত্রী যদি চার বছরের (অনার্স) ব্যাচেলরের পরে আবার দুই বছরের মাস্টার্স করে তবে তার যোগ্যতাকে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাচেলরের সমপর্যায়ের ভাবা হয় (তাও থিসিস এবং ডিগ্রীর মূল্যায়ন সাপেক্ষে)।

সেকশান ২- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনের সকল কলেজ এই সেকশানে পড়েছে। এখানে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে যে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর অধীনস্থ সকল কলেজের শিক্ষামান স্ট্যান্ডার্ড মানের অনেক নীচে। এই সব প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা গ্র্যাজুয়েটদের এমপ্লয়মেন্ট আউটকামস ন্যাশন্যাল লেভেলে তেমন ভালো হয় না। এই সব কলেজের বেশির ভাগ শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে – বলা হয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগের বিএসসি বা এমএসসির চেয়ে বেশি উচ্চতর কোন ডিগ্রী নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে ২০১৪ সালে বিশ্ব ব্যাংকের রিপোর্টে আনা মারাত্মক সমস্যাগুলোকে এখানে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কলেজের পাশাপাশি এই সেকশানে আরও রাখা হয়েছে দেশের প্রায় সবগুলো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও গত কয়েক বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত পাবিলক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে (ফেনী, বরিশাল, কুমিল্লা, যশোর, পাবনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাকী সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়)। এবং খুব অবাক হয়ে আমি খেয়াল করেছি এই সেকশানে ফেলে রাখা হয়েছে দেশের সেরা দুটি বিশ্ববিদ্যালয় – শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে!

সেকশান ৩- উপরের দুই সেকশানের বাইরে যত প্রতিষ্ঠান আছে প্রায় সবগুলো এই সেকশানের অধীনে আছে।

এই রকম সেকশানে ভাগ করে যা করা হয়েছে তা বিস্তারিত বুঝাতে নিচে দুটি উদাহরণ দিচ্ছি-

ক) সেকশান-১ এর অধীনের যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন ছাত্র বা ছাত্রী যদি চার বছরের ব্যাচেলর পাশ করার পর দুই বছরের মাস্টার্স করে, তবে তার এই দুইটি ডিগ্রীকেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাচেলর এবং মাস্টার্সের সমপর্যায়ের বলে ধরা হবে। অর্থাৎ এই ছাত্র বা ছাত্রীর পক্ষে বাংলাদেশে মাস্টার্স করে অস্ট্রেলিয়ার সে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির জন্য সরাসরি এপ্লাই করতে পারবে।

খ) সেকশান-২ এর লিস্টেড বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে যদি কেউ চার বছরের (অনার্স) ব্যাচেলর করে তবে তার ডিগ্রী অস্ট্রেলিয়ার মূল ব্যাচেলর ডিগ্রীর “এসোসিয়েট” বলে ধরা হবে। দুই বছরের মাস্টার্স ডিগ্রীকেও অস্ট্রেলিয়ার মূল মাস্টার্স ডিগ্রীর “এসোসিয়েট” ডিগ্রী ভাবা হবে। এই ছাত্র বা ছাত্রী যদি চার বছরের (অনার্স) ব্যাচেলরের পরে আবার দুই বছরের মাস্টার্স করে তবে তার যোগ্যতাকে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাচেলরের সমপর্যায়ের ভাবা হয় (তাও থিসিস এবং ডিগ্রীর মূল্যায়ন সাপেক্ষে)। তার মানে সেকশান-২ এর কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছরের অনার্স এবং দুই বছরের মাস্টার্সের পর অস্ট্রেলিয়াতে কেউ সরাসরি পিএইচডি করতে পারবে না। এমনকি মাস্টার্সে এপ্লাই করলেও সেটা অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে বলা যাবে যে সে ছাত্র বা ছাত্রী আসলে মাস্টার্সে ভর্তি হতে পারবে কী না!

এখানে ব্যবহার করা সব তথ্য নেওয়া হয়েছে কান্ট্রি এডুকেশান প্রোফাইলে ওয়েবসাইট থেকে, এটি পেইড সাইট। যাদের ইচ্ছা আছে, তারা ঐ সাইট থেকে ডাউনলোড করে আরও বিস্তারিত জানতে পারেন। আমি শুধু সমস্যাটির একটু ধারণা দিলাম।

পাদটীকা:
১. আমি কখনও ইনস্টিটিউটের ক্লাসিফিকেশানে বিশ্বাস করি না। কোন ইউনিভার্সিটি ভালো, আর কোন ইউনিভার্সিটি খারাপ- এটি আমি সহজে বলতে পারি না। কারণ পুরো বিষয়টিই আমার কাছে আপেক্ষিক বলে মনে হয়। কিন্তু এর পরেও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, বাংলাদেশের অন্য যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান খারাপ এটি আমি মেনে নিতে পারবো না। ওখানে ভালো মানের শিক্ষক নেই সেটিও মেনে নিতে পারবো না। এত দূরে যাবো কেন- আমাদের অনেকেইতো শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে এখন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালসহ পৃথিবীর নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন, মূলধারার গবেষণা করছেন। আর শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান গবেষণার কথা আর কীই বলবো! আমার জানামতে বাংলাদেশের যে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে সাস্ট থেকে বেশি বই কম জার্নাল পেপার হয় না। পত্রিকায়তো দেখি প্রায় প্রতি বছরেই সাস্টের কোন না কোন শিক্ষক ইউজিসির গবেষণা এক্সসেলেন্ট পুরস্কার পান। আর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা এখানে আমি কিছু বলবো না (বললে আরও এক পাতা লিখতে হবে)।

২. আমাদের শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট কেউ কী এই ব্যাপারে ইউজিসি’র সাথে বা শাবিপ্রবি/খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আলাপ করবেন? আমারা যারা এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রছাত্রী আনতে চাই তাদেরও উপকার হয়, ঐ সংশ্লিষ্ট ছাত্রছাত্রীরাও ঝামেলা থেকে মুক্তি পায়।

লেখক: মুহম্মদ জহিরুল আলম সিদ্দিকী; শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক এবং রিসার্চ লিডার হিসাবে কর্মরত আছেন

ছবি: প্রতীকী, ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

Share via email

ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংবাদ

এই সংবাদটি ১ মে ২০১৭ইং, সোমবার ১৪টা ১৭মিনিটে খোলা কলম, সর্বশেষ ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের মন্তব্যগুলি স্বয়ঙ্ক্রিয় ভাবে পেতে সাবস্ক্রাইব(RSS) করুন। আপনি নিজে মন্তব্য করতে চাইলে নিচের বক্সে লিখে প্রকাশ করুন।

মন্তব্যসমূহ

120 x 200 [Sitewide - Site Festoon]
প্রধান সম্পাদক: সৈয়দ মুক্তাদির আল সিয়াম, বার্তা সম্পাদক: আকিব হাসান মুন

প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার প্রধান সম্পাদকের। Copyright © 2013-2017, SUSTnews24.com | Hosting sponsored by KDevs.com