360 x 130 ad code [Sitewide - Site Header]

সংগঠন, তুমি কার?

Share via email

sust-new-logo-banner-800x419

সাস্টনিউজ ডেস্ক:

পূর্বে সাস্টনিউজে প্রকাশিত ‘প্রশাসন? নাকি শিকড় ও এসইউডিএস?’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর এই সংবাদের প্রেক্ষিতে পাওয়া গিয়েছে কিছু নতুন তথ্য। প্রকাশিত সংবাদে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় দিবস ২০১৬ উদযাপনের আহ্বায়কের উদ্ধৃতি দিয়ে, আন্দোলনকারীদের প্রথমে মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়ে পরে অনুমতি না দেবার ব্যাপারে বলা হয়, ‘নতুন সাময়িক ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ও ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনার পরিচালকের সাথে সমন্বয়ের অভাবে স্থান সংক্রান্ত এই সমস্যাটি ঘটে। পচিশটি সংগঠন প্রক্টরের কাছে আবেদনপত্র জমা দেয়, আর ঐ দুইটি সংগঠন আবেদনপত্র জমা দেয় ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনার পরিচালক বরাবর। ফলে সমন্বয়হীনতার কারণে এই সমস্যাটি ঘটে।’

প্রথমে ‘প্রশাসন অনুমতি দিয়ে পরে দেয় নি’ দাবী করলেও, পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা এই বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন সাস্টনিউজের কাছে। তারা বলেন, ‘প্রথমে আমরা প্রক্টর বরাবর দরখাস্ত জমা দেই এবং আমাদেরকে নিশ্চয়তা দেয়া হয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আমরা মুক্তমঞ্চ পাচ্ছি। পরবর্তীতে আমরা অনুমতিপত্র তুলতে গেলে আমাদেরকে জানানো হয় সেটি দেয়া যাবে না। এ ব্যাপারে পরবর্তীতে বিজয় দিবস ২০১৬ উদযাপনের আহ্বায়ক আমাদেরকে ব্যাখ্যা করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন স্থানে প্রশাসনের অনুষ্ঠান সূচীর সাথে অন্য কোন (সাধারণত শিক্ষার্থীদের) অনুষ্ঠান সূচীর সংঘর্ষ বাধলে প্রশাসনের অনুষ্ঠান সূচীকে প্রাধান্য দেয়ার নিয়ম। এই নিয়ম উল্লেখ পূর্বক তিনি বলেন, যেহেতু বিজয় দিবসে বিকাল চারটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের অনুষ্ঠান আছে, সেহেতু তিনটা অপশন দেয়া হয় – এক, বিকাল চারটার আগে মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান শেষ করা, দুই, সন্ধ্যা ছয়টার পরে মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান শুরু করা, তিন, অনুষ্ঠানের জন্য অন্য স্থান বেছে নেয়া। এরপর আমরা নিজেদের মাঝে আলোচনা করে চেতনা একাত্তর ভাস্কর্যের পার্শ্ববর্তী ফাঁকা জায়গাটিকে বেছে নেই।’ একাধিক জনের সাথে আলাদা আলাদাভাবে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া হয় বিষয়টি সম্পর্কে। একই সাথে, এই তিনটি বিকল্প অপশন থেকে একটি বেছে নেবার ব্যাপারে প্রশাসন থেকে কোন চাপ দেয়া হয় নি বলেও উল্লেখ করেন প্রত্যেকে।

এখানে লক্ষ্যণীয় যে, আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়, শাবিপ্রবির বিজয় দিবস ২০১৬ উদযাপনের আহ্বায়ক স্পষ্টভাবে বলেছেন, মুক্তমঞ্চে একই সময়ে ‘প্রশাসনের অনুষ্ঠান’ আছে – এই যুক্তিতে আন্দোলনকারীদের বিকল্প অপশন বেছে নেবার কথা বলা হয়। অপরদিকে, এর আগে, সাক্ষাতে তিনি সাস্টনিউজকে বলেন, একটি আবেদনপত্র ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনার পরিচালক বরাবর পড়ে ও অন্যটি (পচিশটি সংগঠন) প্রক্টর বরাবর পড়ে বিধায়, বিষয়টির সমন্বয়হীনতার দরুণ ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনার পরিচালকের কথাকে (সুপারিশ/সিদ্ধান্ত/স্বাক্ষর) প্রাধান্য দেয়া হয় (ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনার পরিচালক প্রক্টোরীয় পরিষদের প্রধান), যার ফলে আন্দোলনরত পচিশটি সংগঠনকে বিকল্প অপশন বেছে নিতে বলা হয়। আন্দোলনকারীদের এই দাবী ও নিম্নে উল্লেখিত আরেকটি বিষয় নিয়ে সংবাদে উপস্থাপনের নিমিত্তে কথা বলার উদ্দেশ্যে বিজয় দিবস উদযাপনের আহ্বায়ককে ফোন দিলে তাঁকে ফোনে পাওয়া যায় নি।

সাক্ষাতে, শাবিপ্রবি বিজয় দিবস ২০১৬ উদযাপন এর আহ্বায়ককে, ‘শাবিপ্রবিতে অনুষ্ঠান করার জন্য কোন স্থান বরাদ্দ দেবার ব্যাপারে প্রটোকল অনুযায়ী কার অনুমতি লাগে, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনার পরিচালক না প্রক্টরের’ এমন প্রশ্ন করা হলে, তিনি উত্তরে জানান, এই বিষয়ে দরখাস্ত করতে হলে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনার পরিচালক বরাবর করার নিয়ম। ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনার দপ্তর থেকে জানা যায়, শাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মিলনায়তন বরাদ্দ নিতে হলে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনার পরিচালক বরাবর দরখাস্ত দিতে হয়, এবং অন্যান্য স্থান বরাদ্দ নেবার ব্যাপারে প্রক্টর বরাবর দরখাস্ত করতে হয়। ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনার দপ্তরের সূত্র হতে প্রাপ্ত এই তথ্য সম্পর্কে অবগত করে উক্ত অনুষ্ঠানে মুক্তমঞ্চ বরাদ্দ দেবার ব্যাপারে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনার পরিচালক অধ্যাপক ডক্টর মো রাশেদ তালুকদারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘মুক্তমঞ্চ বরাদ্দের ব্যাপারে প্রক্টরকে দরখাস্ত করার নিয়ম আছে বলে যখন আমার কাছে এই বিষয়ে দরখাস্ত দেয়া হয়, তখন আমি প্রক্টরের কাছে সুপারিশ করে দেই।’

অর্থায়নের ব্যাপারে শিকড়ের পক্ষ থেকে সাস্টনিউজকে জানানো হয়, ‘প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতা’র বিষয়টি সঠিক নয়। শাকসুর কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনার পরিচালক শাকসুর শিক্ষার্থী ফান্ড থেকে শিকড় ও এস ইউ ডি এস এর অনুষ্ঠানের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। ডক্টর তালুকদারকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠান ও অন্যান্য নানা খাতে প্রশাসন যে টাকা দেয়, সেটা এই ফান্ড থেকেই খরচ হয়। শাকসু বন্ধ থাকলেও ফান্ড কিভাবে সচল থাকে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এটা শিক্ষার্থীদের জন্যই সচল থাকে। এটাকে বন্ধ করা হলে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যে অর্থ প্রদান করা হয়, সেটা থেকে বঞ্চিত হবে বলে জানান তিনি। জানা যায়, প্রতিবছর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট বিভিন্ন জাতীয় দিবসের যে অনুষ্ঠান করে থাকে, তাতে প্রশাসন থেকে যে অনুদান দেয়া হয় তা মূলত এই ফান্ড থেকেই খরচ হয়। শাকসুর ফান্ডের বরাদ্দের টাকার একটা অংশ চেতনা একাত্তর ভাস্কর্যের পাশে যে পচিশটি সংগঠন অনুষ্ঠান করেছে তাদের কেন দেয়া হয় নি এমন প্রশ্নের জবাবে ডক্টর তালুকদার জানান, ‘বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান করার জন্য প্রতিবছরই সংগঠনগুলোকে আহ্বান করা হয়; এবারও তাই করা হয়েছিল। যারা অনুষ্ঠান করতে রাজী হয়েছে এবং শাকসুর ফান্ডের থেকে বরাদ্দ নেবার ব্যাপারে আবেদন করেছে, তাদেরকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’ অন্য একটি সূত্রে জানা যায়, শাকসুর ফান্ডের টাকা শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি এর একটা নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে গঠিত হয়।

‘আন্দোলনে জটিলতার’ ব্যাপারে এস ইউ ডি এস এর পক্ষ থেকে সাস্টনিউজকে জানানো হয়, এস ইউ ডি এস ও শিকড় আগের নিয়মে অনুষ্ঠান করার, অর্থাৎ বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান আর আন্দোলনকে আলাদা রাখার পক্ষপাতী ছিল। ১৩ তারিখ ও ১৪ তারিখ জোটের সভা হবার কথা থাকলেও সেটি সে সময় হয় নি, যার ফলে জোটের সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হতে পারে নি। ১৪ তারিখ রাতে এস ইউ ডি এস এর পক্ষ থেকে জোটের স্থায়ী কমিটিকে জানানো হয়, যেহেতু বিষয়টি মীমাংসিত হয় নি, সেহেতু এস ইউ ডি এস ও শিকড় আন্দোলনে থাকলেও আলাদাভাবে অনুষ্ঠান করবে। ১৪ তারিখ রাতে জোটের সমন্বয়ক ঢাকা চলে যাবার কারণে বিষয়টি নিয়ে আর বসার সুযোগ হয় নি বলে জানানো হয়। এস ইউ ডি এস এর পক্ষ থেকে জোটের কয়েকটি সভায় একজন সদস্য ও অপর কয়েকটি সভায় আরেকজন সদস্য উপস্থিত থাকায় জোটের সমন্বয়কের সাথে তথ্য ও মতামত সমন্বয় সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দেয় বলে জানানো হয়।

উভয় সংগঠন থেকে এটা দাবী করা হয় অনুষ্ঠান তাদের নিজস্বই ছিল এবং তারা আন্দোলনের সাথে আছে।

অনুষ্ঠানে অর্থায়নের ব্যাপারটি মীমাংসিত হলেও, অনুষ্ঠানটি আসলে প্রশাসনের ছিল কি না, সে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। আপাত দৃষ্টিতে এই প্রশ্নটি অহেতুক মনে হলেও, চলমান আন্দোলনে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যদি অনুষ্ঠানটি সংগঠনদ্বয়ের নিজস্ব – এমনটি প্রমাণিত হয়, তবে সেটি জোটের নিজস্ব ব্যাপারে পরিণত হয়। কিন্তু যদি অনুষ্ঠানটি প্রশাসনের হিসেবে প্রমাণিত হয়, তবে তা অনেকগুলি নতুন প্রশ্নের জন্ম দেবে তা বলাই বাহুল্য।

Share via email

ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংবাদ

এই সংবাদটি ২০ ডিসেম্বর ২০১৬ইং, মঙ্গলবার ৪টা ৪৮মিনিটে এস ইউ ডি এস, ভর্তি কার্যক্রম, রাজনীতি, শিকড়, শীর্ষ সংবাদ, সক্রিয় সাধারণ শিক্ষার্থী, সংগঠন, সর্বশেষ ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের মন্তব্যগুলি স্বয়ঙ্ক্রিয় ভাবে পেতে সাবস্ক্রাইব(RSS) করুন। আপনি নিজে মন্তব্য করতে চাইলে নিচের বক্সে লিখে প্রকাশ করুন।

Leave a Reply

120 x 200 [Sitewide - Site Festoon]
প্রধান সম্পাদক: সৈয়দ মুক্তাদির আল সিয়াম, বার্তা সম্পাদক: আকিব হাসান মুন

প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার প্রধান সম্পাদকের। Copyright © 2013-2017, SUSTnews24.com | Hosting sponsored by KDevs.com