360 x 130 ad code [Sitewide - Site Header]

প্রশাসন? নাকি শিকড় ও এসইউডিএস?

Share via email

sust-new-logo-banner-800x419

সাস্টনিউজ ডেস্ক:

গত ডিসেম্বর ১৬ তারিখ চেতনা ৭১ এর পার্শ্ববর্তী স্থানে নিজস্ব অর্থায়নে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আন্দোলনে অংশ নেয়া পচিশটি সংগঠন। আবার, চলমান আন্দোলনে অংশ নেয়া দুইটি সংগঠন শাহজালাল ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (এসইউডিএস) ও শিকড় আলাদাভাবে মুক্তমঞ্চে আয়োজন করে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের। অভিযোগ উঠেছে, আন্দোলন থেকে সরিয়ে নেবার জন্য কয়েকটি পুরাতন সংগঠনকে গোপনে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার প্রলোভন দেয়া হয়, যার মাঝে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আন্দোলনকারীরা দাবী করছে, ‘প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতায়, প্রশাসনের হয়ে এই দুইটি সংগঠন বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান করবে’ (যেই অনুষ্ঠানটি প্রতি বছর সাধারণত জোট করে থাকে, মুক্তমঞ্চে) – এই যুক্তি দেখিয়ে প্রথমে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুক্তমঞ্চ বরাদ্দ দেবার কথা বলা হলেও, পরবর্তীতে মুক্তমঞ্চ বরাদ্দ দেয়া হয় নি আন্দোলনকারীদের।

এ বিষয়ে সাস্টনিউজের পক্ষ থেকে কথা বলা হয় সাময়িক ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ডক্টর মুন্সীর সাথে। তিনি জানান, ‘কেন প্রথমে মুক্তমঞ্চ বরাদ্দ দেবার কথা থাকলেও পরবর্তীতে দেয়া হয় নি সে বিষয়ে বিজয় দিবস উদযাপনের আহ্বায়ক আমার থেকে ভালো বলতে পারবেন; তিনি সেই ব্যাখ্যাটা আলাদাভাবে বিজয় দিবস উদযাপন করা পচিশটি সংগঠনকে দিয়েছেনও। প্রক্টরীয় পরিষদের কাজ মূলত নিরাপত্তা বিষয়ক ব্যাপারটা দেখা। সেই বিবেচনায় প্রক্টরীয় পরিষদ উভয় অনুষ্ঠানেই সমান নিরাপত্তা দিয়েছে।’

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় দিবস অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অধ্যাপক আমিনা পারভীনের সাথে কথা হলে তিনি সাস্টনিউজকে বলেন, ‘ব্যস্ততার কারণে নতুন সাময়িক ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ও ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনার পরিচালকের সাথে সমন্বয়ের অভাবে স্থান সংক্রান্ত এই সমস্যাটি ঘটে। পচিশটি সংগঠন প্রক্টরের কাছে আবেদনপত্র জমা দেয়, আর ঐ দুইটি সংগঠন আবেদনপত্র জমা দেয় ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনার পরিচালক বরাবর। ফলে সমন্বয়হীনতার কারণে এই সমস্যাটি ঘটে।’

পৃষ্ঠপোষকতার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এই পৃষ্ঠপোষকতা অন্যান্য বছর বিজয় দিবসে সাংস্কৃতিক জোটকেও করা হয়। এবার কেবল এই দুই সংগঠনকে করা হয়েছে। তাও এখনও সেই টাকাটা তারা হাতে পায় নি।’ এ বিষয়ে তিনি যোগ করেন, ‘এই দুইটা সংগঠন যখন আমাদের কাছে আসে, তখন তারা বলে তারা গঠনতন্ত্রের বাধ্যবাধকতার কারণে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান করতে চায়। তারা স্পষ্টভাবে এও জানায় যে, তারা আন্দোলনকারীদের সাথেই আছে, তবে গঠনতন্ত্রে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান উদযাপনের বাধ্যবাধকতা আছে বলে তারা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে চায়। সেই সাথে তারা এটাও বলে যে যদি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য কোন ফান্ড থেকে থাকে, এবং তা থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়, শুধুমাত্র তখনই তারা সেই পৃষ্ঠপোষকতা গ্রহণ করবে।’ উল্লেখ্য, প্রাপ্ত তথ্যমতে, জোটের অনেক সংগঠনের মত শিকড় ও এসইউডিএস এর গঠনতন্ত্রেও উল্লেখ করা আছে বিজয় দিবস উদযাপনের বাধ্যবাধকতার কথা। তবে এটি লেখা নেই, সেই উদযাপন বা অনুষ্ঠানের আয়োজন প্রশাসনিক বা অন্য পৃষ্ঠপোষকতাতেই করতে হবে, কিংবা শাবিপ্রবির মুক্তমঞ্চে ছাড়া আর কোথাও করা যাবে না।

sustnews24_apply_banner

অধ্যাপক পারভীন বলেন, ‘পৃষ্ঠপোষকতা করা মানে এই নয় যে এটা প্রশাসনের অনুষ্ঠান ছিল। তারা নিজেদের মত অনুষ্ঠান করেছে।’

এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় এই যে, শাবিপ্রবির সংগঠনের অনুষ্ঠানগুলিতে সংগঠনের প্রতীক ব্যবহৃত হয়, আর প্রশাসনিকভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলিতে ব্যবহৃত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক।  শিকড় ও এসইউডিএস এর অংশগ্রহণে আয়োজিত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের ব্যানারে স্পষ্টভাবে শাবিপ্রবির প্রতীক ব্যবহৃত হয়, সেখানে কোন সাংগঠনিক প্রতীক ছিল না। প্রতিবছর বিভিন্ন জাতীয় দিবসে প্রশাসন থেকে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটকে দায়িত্ব দেয়া হয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য, এবং সেসকল অনুষ্ঠানের ব্যানারে উল্লেখিত কারণে শাবিপ্রবির প্রতীক ব্যবহৃত হয় অনুষ্ঠানের সাথে প্রশাসনিক সম্পর্ক বোঝাতে। বিজয় দিবসে, ‘অর্জুনতলা’য় কিন ও সুপা’র সম্মিলিত চিত্র প্রদর্শনীতে শাবিপ্রবির নয়, যুগ্মভাবে কিন ও সুপা’র প্রতীক ব্যবহৃত হয়। ব্যাখ্যাপূর্বক এই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক পারভীন বলেন, ‘প্রতীক ব্যবহারের সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা আসলে আমি দিতে পারব না। এই দুইটি সংগঠন আন্দোলনে অংশ নেবার কথা স্পষ্ট করে জানিয়েই মুক্তমঞ্চ বরাদ্দ নেয় ও পৃষ্ঠপোষকতার জন্য আবেদন করে। এবং এটাও তারা জানতে চায় যেই টাকাটা দেয়া হবে সেটা অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ শিক্ষার্থী ফান্ড থেকে দেয়া হবে কি না।’

এই সম্পর্কে একটি যৌথ বিবৃতিতে উক্ত দুইটি সংগঠন জানায়, ‘আন্দোলনের মূল দাবী হতে কিছু বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয় যা নিয়ে সংগঠন দুটি মূল দাবী আদায় এর পথে বাধা আসতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে। … কিন্তু যখন বিজয় দিবসের মত জাতীয় দিবসের উদযাপন নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়, ‘শিকড়’ এবং ‘এসইউডিএস’ এই জায়গায় জাতীয় চেতনার প্রাধান্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপন এবং চলমান আন্দোলনকে একে অন্যের থেকে আলাদা রাখতে চেয়েছে। আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য জালিয়াতি চক্রের দ্রুত বিচার হোক।’ উল্লেখ্য, বিবৃতিতে সংগঠন দুইটি ‘বিজয় দিবস উদযাপন নিয়ে জটিলতা’ ও ‘আন্দোলনের মূল দাবী হতে বিচ্যুতি’ শব্দগুচ্ছদ্বয়ের কোন সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয় নি। একই সাথে, ‘জাতীয় চেতনাকে প্রাধান্য দিয়ে বিজয় দিবস উদযাপন’ এর সাথে প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতা গ্রহণ ও চলমান আন্দোলনকারীদের থেকে আলাদাভাবে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনের সম্পর্ক কোথায় সে সম্পর্কেও কোন সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা তারা দেয় নি।

admission_test_fraud_2016_suds_shikorh

এসইউডিএস ও শিকড় এর এহেন আচরণকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেই দেখছে আন্দোলনকারীরা। এছাড়া শোনা যাচ্ছে, আলাদাভাবে বিজয় দিবস উদযাপনের মাধ্যমে ‘জোটের সভার সিদ্ধান্ত সকল সদস্য সংগঠন অবশ্যই মেনে চলবে’ এমন নীতি ভঙ্গ করায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট থেকে বহিষ্কৃতও হতে পারে এই দুইটি সংগঠন।

Share via email

ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংবাদ

এই সংবাদটি ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬ইং, সোমবার ২টা ৫২মিনিটে উদযাপন, এস ইউ ডি এস, জাতীয় দিবস, ভর্তি কার্যক্রম, রাজনীতি, শিকড়, শীর্ষ সংবাদ, সক্রিয় সাধারণ শিক্ষার্থী, সংগঠন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট (জোট), সর্বশেষ ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের মন্তব্যগুলি স্বয়ঙ্ক্রিয় ভাবে পেতে সাবস্ক্রাইব(RSS) করুন। আপনি নিজে মন্তব্য করতে চাইলে নিচের বক্সে লিখে প্রকাশ করুন।

Leave a Reply

120 x 200 [Sitewide - Site Festoon]
প্রধান সম্পাদক: সৈয়দ মুক্তাদির আল সিয়াম, বার্তা সম্পাদক: আকিব হাসান মুন

প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার প্রধান সম্পাদকের। Copyright © 2013-2017, SUSTnews24.com | Hosting sponsored by KDevs.com