360 x 130 ad code [Sitewide - Site Header]

পূর্ণাঙ্গ ফাঁড়ির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া আছে

Share via email

sust-new-logo-bannerকর্ণ:

গত নভেম্বর ১ তারিখে শাবিপ্রবিতে পুলিশ ব্যারাকের উদ্বোধন হয়।

উদ্বোধনের পর থেকে শাবিপ্রবির পুলিশ ব্যারাক নিয়ে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ নিরাপত্তার জন্য একে অপরিহার্য মনে করে বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, শাবিপ্রবির অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী একে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পুলিশ ব্যারাক স্থাপনকে অপ্রয়োজনীয় হিসেবে আখ্যা দিয়ে ও বাংলাদেশের ইতিহাসে পুলিশ কর্তৃক সাধারণ শিক্ষার্থীর দমন-পীড়নের অধ্যায়কে ফিরিয়ে আনার সূচনা হিসেবে আশঙ্কা করে সামাজিক গণমাধ্যমে লিখছেন অনেকে।

প্রশাসনের সাথে কথা বলে জানা যায়, এটি নতুন কোন স্থাপনা নয়; ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে আগে থেকেই অস্থায়ী টিনের স্থাপনায় পুলিশ সদস্যরা থাকতেন। সেটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাস অযোগ্য হয়ে যাওয়াতে ইট নির্মিত ব্যারাক তৈরী করা হয়েছে।

‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে একটি প্রক্টরীয় পরিষদ থাকা সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে পুলিশের উপস্থিতি ও ব্যারাক স্থাপন প্রক্টোরীয় পরিষদের ব্যর্থতার ফল’ – এমন ইঙ্গিত দিয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে লিখেছেন। এ ব্যাপারে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনার পরিচালক এবং ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ডক্টর মো রাশেদ তালুকদার এর সাথে কথা হলে তিনি শাবিপ্রবির প্রক্টরীয় পরিষদ দায়িত্ব পালনে সফল দাবী করে সাস্টনিউজকে বলেন, ‘প্রক্টরীয় পরিষদের প্রতিটি সদস্য অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নিরলসভাবে ক্যাম্পাসের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। দায়িত্বপ্রাপ্তরা রাত এগারোটা বারোটা পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাসে থাকছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘চোর, ছিনতাইকারী ধরা পড়লে তাদেরকে পুলিশেই সোপর্দ করা লাগছে। পুলিশ সদস্যরা জালালাবাদ থানায় থাকলে যে সময়ের মাঝে এসে পৌঁছাতে পারবেন, ক্যাম্পাসের ব্যারাক থেকে তার চেয়ে অনেক বেশী দ্রুত এখানে এসে পৌঁছাতে পারবেন – পার্থক্য এতটুকুই। এছাড়াও ক্যাম্পাসে অনেক শিক্ষকের জন্য পুলিশ নিয়োজিত আছেন, তাদের থাকার জন্যও একটি জায়গা প্রয়োজন’

পুলিশের দায়িত্ব কেমন হবে সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় শাবিপ্রবির মাননীয় উপাচার্য ডক্টর মো আমিনুল হক ভূইয়ার কাছে। ক্যাম্পাসে কোন শিক্ষক বা ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশ কোন হস্তক্ষেপ করবে কি না তা জানতে চাইলে, ক্যাম্পাসে প্রশাসনের অনুমতি ব্যতীত অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পুলিশ কোন পদক্ষেপ নেবে না তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে তিনি সাস্টনিউজকে বলেন, ‘বিগত শিক্ষক আন্দোলনে বা শিক্ষার্থী আন্দোলনে পুলিশ কিন্তু কোনরূপ দমন-পীড়ন মূলক পদক্ষেপ নেয় নি। প্রক্টোরীয় পরিষদের সুপারিশে, বা সুপারিশ ব্যতীত, উপাচার্যের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতাবলে উপাচার্য যখন মনে করবেন ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা প্রদানে পুলিশকে পদক্ষেপ নিতে হবে তখন তিনি পুলিশকে ডাকতে পারেন। এছাড়া অন্য সময় পুলিশের মূল দায়িত্ব হবে প্রশাসনিক ভবনগুলোতে নিরাপত্তা দেয়া, উপাচার্যের অফিস ও বাসভবনের দেখাশোনা করা (নিরাপত্তা দেয়া) ও কোন সহিংস কর্মকাণ্ড ঘটলে সেটি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া।’

পুলিশ ব্যারাক স্থাপনের কারণ জানতে চাইলে তিনি সাস্টনিউজকে জানান, ‘এই পুলিশ ব্যারাক স্থাপনের আগে পুলিশ সদস্যরা একটি অস্থায়ী স্থাপনায় থাকতেন। সেটি ভাঙ্গাচোরা একটি স্থাপনা হওয়ায় পুলিশ সদস্যদের সেখানে থাকতে কষ্ট হত। পরে তাদের উপাচার্যের অতিথি ভবনে স্থানান্তর করলে অনেক শিক্ষক সেটা নিয়ে আপত্তি তোলেন। তখন একটি ব্যারাক স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এছাড়াও, জালালাবাদ থানা থেকে পুলিশ আসতে যে সময় লাগে, সেটি কমানোর জন্য ব্যারাক স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রক্টরীয় পরিষদ রয়েছে। কিন্তু বহিরাগত যারা এসে দিনে বা রাতে অপকর্ম করছে, সেসকল দোষীদের বেলায় পুলিশ পদক্ষেপ নেবে। এছাড়া ক্যাম্পাসে কোন সহিংস কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে পুলিশ পদক্ষেপ নেবে।’ এসময় উপাচার্যের অফিসে অবস্থানকারী একজন শিক্ষক জানান, ‘বর্তমানে জঙ্গি তৎপরতা এড়াতে প্রশাসন ক্যাম্পাসে পুলিশের উপস্থিতিকে প্রয়োজন মনে করছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক হত্যার হুমকি পেয়েছেন, তাঁদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সদস্য নিয়োজিত আছেন, সেকল পুলিশ সদস্যদের থাকার জন্যও একটি স্থান প্রয়োজন।’ প্রাপ্ত তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে একজন শিক্ষকের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে।

sustnews24_apply_banner

পুলিশ শিক্ষার্থীদের চলাচলে বাধা প্রদান করতে পারে – অনেক শিক্ষার্থী এমন আশঙ্কা করছেন জানালে উপাচার্য সে আশঙ্কা অমূলক বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, পুলিশের কাজের এখতিয়ারভুক্ত কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সে সময় প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে পুলিশ কাজ করবে, এছাড়া পুলিশকে শিক্ষার্থীদের চলাচলে কোনরূপ বাধা প্রদান, বা পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য করার মত প্রক্টরীয় ক্ষমতা দেয়া হয় নি। বর্তমানে পুলিশের উপস্থিতিতে রাতের ক্যাম্পাস অতীতের তুলনায় অনেক নির্জন এমন কথার প্রেক্ষিতে তিনি সাস্টনিউজকে বলেন, শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সর্বত্র সবসময় নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারে।

অতীতে সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে পূর্ণাঙ্গ পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া আছে বলে উপাচার্য মহোদয় সাস্টনিউজকে জানান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ ফাঁড়ি রয়েছে স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজন সাপেক্ষে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।

সম্প্রতি ছাত্রী হলের দিকে ছিনতাই বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন দ্রুত কাজ করবে বলে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গত নভেম্বর ৬ তারিখে, ব্যারাকটির কাছেই অবস্থিত ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল’ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা চুরি যায়।

Share via email

ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংবাদ

এই সংবাদটি ৯ নভেম্বর ২০১৬ইং, বুধবার ২২টা ৫১মিনিটে প্রতিবেদন, শীর্ষ সংবাদ, সর্বশেষ ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের মন্তব্যগুলি স্বয়ঙ্ক্রিয় ভাবে পেতে সাবস্ক্রাইব(RSS) করুন। You can leave a response or trackback to this entry

Leave a Reply

300 x 250 ad code innerpage

Recent Entries

120 x 200 [Sitewide - Site Festoon]
প্রধান সম্পাদক: সৈয়দ মুক্তাদির আল সিয়াম, বার্তা সম্পাদক: আকিব হাসান মুন

প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার প্রধান সম্পাদকের। Copyright © 2013-2017, SUSTnews24.com | Hosting sponsored by KDevs.com