360 x 130 ad code [Sitewide - Site Header]

বিশ্ব শান্তি দিবস : ব্যক্তিজীবন থেকে আন্তর্জাতিক

Share via email

নওরোজ কোরেশী দীপ্ত:

বিশ্ব শান্তি দিবস

মানুষ জীব হিসেবে নিজেদের মাঝে যে সকল লক্ষ্যস্থির করে নিজের সামগ্রিক পথচলার গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে, তার মাঝে অন্যতম বিষয়টি হল শান্তি। প্রজাতি হিসেবে সকল অনুকূলতা লাভের চেষ্টাগুলোর মূল উদ্দেশ্যই হল ব্যক্তিগত থেকে আন্তর্জাতিক শান্তি বজায় রাখা।

আজ বিশ্ব শান্তি দিবস। যুদ্ধবিহীন ও উন্নয়নমুখী বিশ্ব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘ ১৯৮১ সালে আজকের এই দিনটিকে “বিশ্ব শান্তি দিবস” বা “আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস” হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রাথমিকভাবে সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় মঙ্গলবার এই দিবস হিসেবে পালিত হলেও ২০০১ সালে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ২১ সেপ্টেম্বরকে এ দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আজকের এই দিনটিকে “বিশ্ব নিরস্ত্রীকরণ দিবস” ও অনেকক্ষেত্রে “বিশ্ব অহিংসা দিবস” হিসেবেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। বলা বাহুল্য, ২০১৬ সালের এই দিনটিকে জাতিসংঘ উৎসর্গ করছে বিশ্ব উন্নয়নের স্থায়ী সমাধান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে আনার পরিকল্পনাকে।

“শান্তি” ব্যাপারটি মানুষের মনস্তত্ত্ব থেকে শুরু করে যাবতীয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে একটি আলোচনার বিষয়। ১৯৮১ সালে আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরস্ত্রীকরণ ও যুদ্ধবিহীন বিশ্বকাঠামো গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নিয়ে দিবসটিকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, তা আজকের বিশ্ব ও বিশ্বব্যবস্থার সাপেক্ষে অনেকাংশেই সফলতার মুখ দেখতে পায়নি। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যে ভয়াবহতা বিশ্ববাসী গত শতাব্দীতে দেখেছে, এই দিবস প্রতিষ্ঠার পরও আন্তর্জাতিক মহলে উপসাগরীয় যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য অস্থিরতা, পারমাণবিক শক্তিধর দেশসমূহের মাঝের বিরোধ শুধুমাত্র অশান্তির দাবানলকে সম্প্রসারিত করছে। আধুনিক বিশ্বের ইস্যুগুলো যদি আমরা দেখি, আজও প্যালেস্টাইন-ইসরাইল এ গণহত্যা ইস্যু, সিরিয়া-ইরাক-মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, সবচেয়ে সভ্য ও আধুনিকতার দাবীদার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদ থেকে হত্যা-খুন, প্যারিসে জঙ্গি হামলা, দক্ষিণ চীন সাগর বিরোধ এবং সর্বশেষ সীমান্তে ভারত-পাকিস্থানের মাঝে উত্তেজনাকর সামরিক পরিস্থিতি শান্তির ইটগুলোকে চূর্ণ করে দিচ্ছে, ব্যর্থ করছে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা। অর্থনৈতিক উপনিবেশায়ন ও বাজার দখলের অসুস্থ প্রতিযোগিতার ছোবলে পড়ছে আমাদের মত স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোও।

শান্তি যেমন মানে না কোন জাতি-ধর্ম-বর্ণের প্রতিনিধিত্ব, সহিংসতা-সমরাস্ত্র-ক্ষেপনাস্ত্রের ছোবল যেমন মানে না কোন ভৌগলিক সীমারেখা। সেক্ষেত্রে যদি জাতি হিসেবে নিজেদের শান্তিকামী ও শান্তিময় রাষ্ট্রের দাবীদার ধরি, আমরাও নিরাপদ থাকছি না। যার প্রমাণ রেখে চলেছে দেশে নিয়মিত অস্থিরতা ও সহিংসতা, কখনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, কখনো ধর্মকে অপব্যাখ্যা করে প্রতিষ্ঠিত জঙ্গিবাদ ও উগ্র-জাতীয়তাবাদের চর্চা, কখনো গুম-খুন-ধর্ষণের মত অমানবিক পশু-সংকেত। ১ জুলাই গুলশান হামলা যার চূড়ান্ত নমুনাস্বরূপ। অশান্তিটুকু সীমাবদ্ধ ছিলনা শুধু জিম্মিদের বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনেই, তা ছড়িয়ে পড়েছিল মিডিয়ার মাঝে, ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সকলের মন-মস্তিস্কে। আমরা পারিনি সেই শান্তিকে রক্ষা করতে, আজও পারিনি আমাদের মনে নিরাপত্তার চূড়ান্ত আশ্বাসটুকু রেখে শান্তিকে সেই ছাউনিতে আশ্রয় দিতে। এমনকি পারিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে নিজেকে সেই অবিশ্বাসের ও অনিশ্চয়তার বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে। যার প্রমাণ আমাদের মত শিক্ষিত ভবিষ্যত প্রতিনিধিদের মাঝে আস্তানা গেড়ে বসা মানুষরুপী পশুগুলোকে, যাদের পরিচয় আমরা জানি “জঙ্গি” হিসেবে। প্রতিনিয়তই আমাদের কানে ভেসে আসে যাদের গ্রেফতার হবার খবরাখবর। হারিয়ে যায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি, শান্তি হারায় তার পথ চেয়ে থাকা একটি পরিবার।

মানুষ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব এক্ষেত্রে অনেক। আমরা সমাজের রীতিনীতি নিয়ে কথা বলি, বলি সামাজিকতা নিয়ে, সৌহার্দ্য-সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার নিয়ে। কিন্তু কখনো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আঘাত হানি শান্তির প্রতিজ্ঞায়, কখনো কলমের বদলে তুলে নেই অস্ত্র, অপমান করি ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ককে, অপমান করি নিজের বিদ্যা ও বিদ্যাপীঠকে। তাই শুধু পড়ালেখাই নয়, সাংস্কৃতিক বিকাশ ও চর্চায় ছড়িয়ে পড়তে হবে সুস্থ প্রতিযোগিতা। নিজেকে সুশিক্ষা ও স্বশিক্ষায় শিক্ষিত করে, নিজের মাঝে অহিংসা ও সহমর্মিতা লালন করে, নিজের মাঝে সকলের ও নিজের প্রতি দায়িত্বগুলো পালনের মনোভাব ছড়িয়ে দিয়ে আমরা গড়ে তুলতে পারি একটি শান্তির সমাজ, শান্তিময় জাতীয় জীবন। আমাদের প্রতিনিধিরাই হবে পরবর্তী বিশ্বের অহিংসতা, নিরস্ত্রিকরণ ও উন্নয়নের প্রতিনিধি, সামগ্রিক উন্নয়ন নতুন মাত্রা পাবে তার পথচলায়।

Share via email

ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংবাদ

এই সংবাদটি ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ইং, বুধবার ০টা ০১মিনিটে প্রবন্ধ, সম্পাদকীয়, সর্বশেষ ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের মন্তব্যগুলি স্বয়ঙ্ক্রিয় ভাবে পেতে সাবস্ক্রাইব(RSS) করুন। আপনি নিজে মন্তব্য করতে চাইলে নিচের বক্সে লিখে প্রকাশ করুন।

Leave a Reply

300 x 250 ad code innerpage

Recent Entries

120 x 200 [Sitewide - Site Festoon]
প্রধান সম্পাদক: সৈয়দ মুক্তাদির আল সিয়াম, বার্তা সম্পাদক: আকিব হাসান মুন

প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার প্রধান সম্পাদকের। Copyright © 2013-2017, SUSTnews24.com | Hosting sponsored by KDevs.com