360 x 130 ad code [Sitewide - Site Header]

বিজয়ীবেশে শাবির অন্যতম বিতর্ক তারকার অবসর

Share via email

কর্ণ:

গত সেপ্টেম্বর ৩ তারিখে বিতর্ক জীবন থেকে অবসর নেন শাবিপ্রবির অন্যতম বিতর্ক তারকা হাসনাত কালাম সুহান। তিনি শাবিপ্রবির লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিরোপা ক্ষুধার্ত বিতার্কিকদের একজন হিসেবে শাবিপ্রবির হয়ে জাতীয় বিতর্কে অংশ নিয়েছেন অনেকবার; বিশটিরও বেশী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন, দু’টিতে প্রতিযোগিতার শ্রেষ্ঠ বক্তা হয়েছেন, বিভিন্ন রাউণ্ডের শ্রেষ্ঠ বক্তা হয়েছেন অনেকবার। নিজের জীবনের শেষ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দলের জয়ে ভূমিকা রেখেছেন, অর্জন করেছেন প্রতিযোগিতার শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক হবার গৌরব। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনেকটা বিরতিহীনভাবে বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। জীবন থেকে অবসর গ্রহণকে কেন্দ্র করে সাস্টনিউজের পক্ষ থেকে এই মেধাবী বিতার্কিকের সাথে তার বিতর্ক জীবন ও বিতর্ক বিষয়ক কিছু আলাপ  করা হয়। সাস্টনিউজের পাঠকদের জন্য সেই আলাপচারিতার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হল।

সাস্টনিউজ: সাস্ট ক্র্যাক প্লাটুনের বিজয়ে এবং প্রতিযোগিতার শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক হবার গৌরব অর্জনে প্রথমে আপনাকে জানাই অভিনন্দন!
সুহান: ধন্যবাদ আপনাকে।

সাস্টনিউজ: টানা রানার্স আপ হতে থাকা অবস্থায় সাস্ট এস ডি’র সকলের মাঝে আনন্দের পাশাপাশি একটা হতাশা কাজ করত যে সর্বোচ্চ পরিশ্রম দেবার পরও সর্বোচ্চ অর্জনটুকু আসছে না। সে হতাশা কাটিয়ে বিগত তিনটি প্রতিযোগিতায় টানা জয়। বলা যায় অপেক্ষাকৃত ভালো একটি যুগের, যেটা চরম আকাঙ্ক্ষিত, শুরু হয়েছে মাত্র। সে রকম একটা সময়ে অবসরের পেছনে কারণ কী?
সুহান: আমাদের ২০১১-১২ সেশনের সব বিতার্কিক-ই অবসর নিয়ে নিচ্ছেন কিংবা মাস কয়েকের মধ্যে নিবেন। এটা নিয়ম মাফিক অবসর বলতে পারেন।স্নাতক কোর্স শেষ হওয়ার পর আমার দেশের বাইরে স্নাতকোত্তর কোর্স করার  প্ল্যান; সেটার অধিকাংশ প্রক্রিয়াও শেষ। তাই, শাবিপ্রবি-তে আর থাকাও হচ্ছে না স্নাতক শেষে। তবে, বিতর্ক অঙ্গনের সাথে সম্পর্ক থাকবে একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে।

সাস্টনিউজ: শাবিপ্রবির হয়ে জাতীয় বিতর্কে অংশ নিয়েছেন বহুবার। প্রায় সবগুলোতেই বিজয়ী কিংবা রানার্স আপ দলের সদস্য ছিলেন। অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শ্রেষ্ঠ বিতার্কিকও হয়েছেন। জীবনের শেষ বিতর্কটি যখন শেষ হয়ে এল, তখন কেমন লাগছিল?
সুহান: অবসর গ্রহণের মূহুর্তটি ছিল আমার জন্য খুব ভালো এবং স্মরণীয় মুহূর্ত। নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করে শেষ বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন, ইউ আই ইউ ন্যাশনালস -২০১৫ এর পর আবারও প্রতিযোগিতার শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক  হওয়ার সৌভাগ্য। অন্য আরেকটা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দর্শকরা হাততালি দিয়ে বিদায় জানাচ্ছেন; প্রতিপক্ষ বিতার্কিকরা দাঁড়িয়ে  অভিনন্দন জানাচ্ছেন। সিনিয়র জাতীয় বিতার্কিকদের কাছ থেকে ভালোবাসা এবং স্নেহ সুলভ শুভেচ্ছা পাওয়া – এগুলো সাধারণত বিতর্কমঞ্চে হয় না। বিতর্ক তো কাঠখোট্টা স্পোর্টসের মতো হচ্ছে ইদানীং। সেক্ষেত্রে, আমার ভাগ্য সুপ্রসন্নই বলতে হবে!

sd 2

সাস্টনিউজ: আপনার পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলুন।
সুহান: স্নাতক কোর্স শেষ হওয়ার পর আমার দেশের বাইরে স্নাতকোত্তর কোর্স করার প্ল্যান; সেটার অধিকাংশ প্রক্রিয়াও শেষ। তাই, শাবিপ্রবি-তে আর থাকাও হচ্ছে না স্নাতক শেষে। তবে, বিতর্ক অঙ্গনের সাথে সম্পর্ক থাকবে একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে।

সাস্টনিউজ: কখন থেকে বিতর্ক  জীবনের শুরু?
সুহান: সংসদীয় বিতর্কের শুরুটা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেই। প্রথম বর্ষ থেকেই আন্তঃ সেমিস্টার, আন্তঃ বিভাগ বিতর্কে অংশগ্রহণ করেছি। তবে, বিতর্কের  সাথে পরিচয় হয়েছিল আরও আগে।  স্কুলে টি আই বি-র আন্তঃস্কুল দুর্নীতি বিরোধী বিতর্কের মাধ্যমে প্রথম সনাতনী বিতর্কের হাতেখড়ি। ২০০৭ এর দিকের ঘটনা এটা।

আমার বন্ধুদের সার্কেলটাও বেশ গুরুত্বপুর্ণ। বেশ পড়ুয়া সবাই। ওদের সাথে আড্ডাটাও কাজে দিয়েছে সবসময়।

সাস্টনিউজ: প্রতিটা সফলতার পেছনে অগ্রপথিকদের অবদান থাকে। কখনও তাঁরা অনুগামীদের নিজ হাতে গড়ে দেন, কখনও কেবল পথটুকু দেখিয়ে দেন। আপনার বিতর্কের পথদ্রষ্টা কে বা কারা, আপনার সাফল্যের পেছনে যাদের অবদানকে আপনি সবসময় স্মরণ করেন?
সুহান: স্কুল পর্যায়ে আম্মু উৎসাহ দিতেন। টেলিভিশন বিতর্ক দেখে দেখেই আগ্রহটা তৈরি হয়েছিল। মাঝখানে কলেজ পর্যায়ে বিরতি। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এসে প্রথমে বিতর্ক করার ইচ্ছা ছিল না।  আবৃত্তি, থিয়েটার এসবেই আগ্রহ ছিল। আমার বিভাগের এক শিক্ষকের উৎসাহে প্রথম আন্তঃবিভাগ বিতর্ক করা এবং এর পরবর্তীতে জাতীয় বিতর্কে অংশ নেয়ার পরিকল্পনা নেয়া।

এই পথচলায় অনেক মানুষের কাছেই আমি কৃতজ্ঞ। সাস্ট-এস ডির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এ এস শাকুর ভাইকে স্মরণ করবো এক্ষেত্রে।  আবৃত্তির মঞ্চ থেকে নিয়ে এসে বিতর্ক করার তাড়নাটা উনিই দিয়েছিলেন। এরপর অনেক মানুষের সাহায্য পেয়েছি; নির্দেশনাও পেয়েছি। আমার এই চার বছরের  বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক জীবন বেশ ঘটনাবহুল; বহু চড়াই উৎরাইয়ের। অনেক মানুষের অবদান স্বীকার করতে হবে। এদের মাঝে আছেন শ্রদ্ধেয় হারুণ রশীদ, প্রতীক মন্ডল,  সাইয়্যেদ তাসনীম  মাহমুদ তুশন, ইশতিয়াক হোসেন মুন্সী, ধ্রুব রঞ্জন রায়, শেখ শিব্বির হোসেন, শাখাওয়াত আহমেদ, শাফায়েত শাহরিয়ার হোসেন। শাবিপ্রবি-র  সব বিতর্কপ্রেমীদের কাছেই ইনারা প্রথিতযশা বিতার্কিক ও সংগঠক, আমার কাছে তার চাইতেও বেশি। আমার বিতর্কজীবন নয় শুধু, পুরো ক্যাম্পাস জীবনের বিপদকালীন সময়গুলোতে এঁরা আমার উপর বিশ্বাস রেখেছিলেন। এই নামগুলো কখনোই ভুলবো না।

sd 4

সাস্টনিউজ: আপনি সাধারণত কোন পক্ষে লড়াই করতে পছন্দ করতেন, সরকারী, না বিরোধীদলীয়? দলের কোন অবস্থানে, অর্থাৎ কোন বক্তা হিসেবে বিতর্ক করতে স্বাছন্দ্য বোধ করতেন?
সুহান: পক্ষের ব্যাপারটা আসলে বিতর্কের বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তবে সাধারণভাবে সরকারী দলের কাছে সংজ্ঞায়নের বাড়তি সুবিধাটুকু থাকে। আমি সংসদ সদস্য ছাড়া সব পর্যায়ের বক্তা হিসেবেই বিতর্ক করেছি। স্বাচ্ছন্দ্যের জায়াগাটা ছিল দ্বিতীয় বক্তা হিসেবে (মন্ত্রী/উপনেতা)।  ১ম বক্তা (প্রধানমন্ত্রী/বিরোধী দলীয় নেতা) করতে হয়েছে দলের প্রয়োজনে। তবে, সাফল্য দু’ জায়গাতেই এসেছে।

শাবিপ্রবি এখন আর ‘জয় পরাজয় মুখ্য নয়, অংশগ্রহণই বড় কথা’ – এই ধারণা নিয়ে বিতর্ক করতে যায় না।

সাস্টনিউজ: ভালো বিতর্ক করার জন্য কোন কৌশল অবলম্বন করতেন কি? 
সুহান: তেমন কোন কৌশল নেয়া হয় না। পাঠ্যবইয়ের বাইরে টুকটাক পড়াশুনা করতাম। আমার বন্ধুদের সার্কেলটাও বেশ গুরুত্বপুর্ণ। বেশ পড়ুয়া সবাই। ওদের সাথে আড্ডাটাও কাজে দিয়েছে সবসময়।

সাস্টনিউজ: জীবনের একটা অধ্যায় যখন শেষ হয়, তখন প্রত্যেকে অতীতের বিন্দুগুলোকে মেলাতে শুরু করে। এই বিন্দু মেলাতে গিয়ে আপনার উপলন্ধি কি, যে বিতর্ক জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রাপ্তি কি? আর সবচেয়ে বড় হতাশা বা আক্ষেপ কি? বিতর্ক করে কি পেলেন আর কি হারালেন? 
সুহান: দেখুন, বিতর্ক কিংবা বিতর্ক ক্লাব করতে গিয়ে শাবিপ্রবি-র ইতিহাসের সবচেয়ে বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তগুলো কিন্তু  গত তিন বছরেই এসেছে। আমি যেহেতু ওই মানুষগুলোর সাথে ছিলাম, ঝুঁকি আমাকেও নিতে হয়েছে। তবে, দিন শেষে আমার সর্বোচ্চ প্রাপ্তি;  সাস্ট-স্কুল অব ডিবেট (সাস্ট-এস ডি) এর  অর্জিত সাফল্যগুলো।

সম্পুর্ণ ব্যাক্তিগত আদর্শের জায়গা থেকে  আমি এই ক্লাবের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী দায়িত্বে যাই নি;  যেহেতু তখন অনেক অপপ্রচার চলছিল আমাদের এই নতুন ক্লাব খোলার উদ্যোগটার বিরদ্ধে। আমাকে ঘিরে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করাটাকেই আমি জরুরি মনে করেছি। এটাকে কেউ  ব্যক্তিগত  আবেগী সিদ্বান্ত বললেও, আমি দ্বিমত হবো না। সেই আপদকালীন সময়ে, আমার বন্ধুরা (পুষ্পা, সাজন, লোচন) এমন করে ভাবে নি। ওরা অনেক প্রাপ্তবয়ষ্ক এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওদের নেতৃত্বেই এই নতুন প্রতিষ্ঠিত ক্লাবটি সাফল্যগুলো অর্জন করেছে। একই আদর্শের অনুজরা সাফল্যের জয়রথটা চালিয়ে নিচ্ছে  এখন। বেশ স্বাছ্যন্দের সাথে। আমি শুধু ওদের  পাশে ছিলাম। এই প্রতিভাবান মানুষগুলোর সাথে থাকাটাই আমার বিতর্ক জীবনের সাফল্য।

হতাশা সেই অর্থে নেই।  শাবিপ্রবি-র বিতর্কের সংস্কার আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক প্রিয় শিক্ষক, প্রিয় মানুষের সাথে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। নতুন ক্লাব “সাস্ট-এস ডি” প্রতিষ্ঠার পর এটা আরও বেড়েছিল। উনাদের কেউ কেউ আমাদের প্রগতিবাদী আদর্শিক জায়গাটা না ধরতে পেরে, কেবল অপপ্রচারটাই বিশ্বাস করেছিলেন তখন। এটা একটু আক্ষেপের জায়গা ছিল। কারণ, যে উদ্যমী বিতার্কিকদের বিরুদ্ধে এসব রটেছিল; ওদের এসব প্রাপ্য না।

সেই ছেলেমেয়েগুলোই কিন্তু শাবিপ্রবি-র তেইশ বছরের অর্জনের তিনগুণ অর্জন এনে দিয়েছে,  সাস্ট-এস ডি  প্রতিষ্ঠার পর এই দেড় বছরে।  সবাই স্বীকার করে, সাস্ট – এস ডি এখন দেশের সেরা বিতর্ক ক্লাবগুলোর একটি।  ট্রফির সংখ্যা হিসেব করলে এ বছরে শীর্ষে। সেই অর্থে, শাবিপ্রবি এখন আর ‘জয় পরাজয় মুখ্য নয়, অংশগ্রহণই বড় কথা’ – এই ধারণা নিয়ে বিতর্ক করতে যায় না। এই ছেলেমেয়েগুলোই কিন্তু  পরিবর্তনটা এনেছে।

যেহেতু, ক্ষমতাকেন্দ্রিক পরিবেশ ভেঙে বিতর্ক বান্ধব পরিবেশটা তৈরি হয়েছে এখানে, সেহেতু, একজন  বিতার্কিক তার সর্বোচ্চ সুযোগটুকু পাচ্ছে।  তাই, আমার ওই আক্ষেপ কিংবা হতাশার জায়গাটা এখন আর নেই।

সাস্টনিউজ: সহ বিতার্কিক হিসেবে কাকে বা কাদের পছন্দ করেন? অর্থাৎ যার বা যাদের সাথে দল গঠন করে বিতর্ক করতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
সুহান: সাস্ট-ক্র্যাক প্লাটুনের হয়ে যে কারও সাথে বিতর্ক করতেই ভালো লাগে। তবে, প্রিয় বন্ধু সাজন (রাকিবুল হাসান সাজন) এর সাথে শুধু বিতর্কের নয়, যে কোন ব্যাপারেই স্বাছন্দ্য ছিল।

sd 3

সাস্টনিউজ: জাতীয় পর্যায়ের বিতর্কে কেউ কাউকে ছাড় দেয় না। তবে এমন কিছু কিছু দল থাকে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতাটুকুকে এত উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যায় যে বিতর্ক করে মজা পাওয়া যায়। সে হিসেবে আকাঙ্ক্ষিত প্রতিপক্ষ?
সুহান: পছন্দের প্রতিপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটির কথা বলবো।

আমরা আমাদের যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছি, কাজেই প্রশাসন তার সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে, এমন আশা নয়, এমন ‘দাবী’ আমরা রাখতেই পারি।

সাস্টনিউজ: আপনি একজন শক্তিমান বিতার্কিক। আপনি চলে যাওয়ায় শাবিপ্রবি ও ‘সাস্ট এস ডি’তে একটা শূন্যতা সৃষ্টি হল। বিতর্কে নিজের যোগ্য উত্তরসূরি বলে মনে করেন কাউকে? কিংবা এর মাঝে কাউকে নিজের প্রডিজি হিসেবে গড়ে তুলেছেন?
সুহান: একটা খুব সত্যি কথা বলি? আবেগী হয়ে বলছি না একদম। ‘সাস্ট এস ডি’র  কনিষ্ঠদের অনেকেই আমাদের সামসময়িক বিতার্কিকদের চাইতে প্রতিভাবান ও প্রতিশ্রুতিশীল। এই যেমন, সাস্ট ক্র্যাক প্লাটুনের অন্য দুই সদস্য রাজু এবং শাওনের কথাই ধরুন; এদের প্রতি আমার আস্থা নিজের চাইতেও বেশি। কনিষ্ঠ ব্যাচগুলোর মধ্যেও অনেকেই আছে। একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে, অনেক অনুশীলন বিতর্ক করার মাধ্যমে যেহেতু ‘পাইপলাইন’টা তৈরি হচ্ছে; সেহেতু এদের সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিশীল। ওদের মধ্য থেকে  নাম নিতে গেলে অনেক হয়ে যাবে!

সাস্টনিউজ: বিশ্ববিদ্যালয়ের  সামগ্রিক বিতর্ক পরিবেশের মূল্যায়ন হিসেবে কিছু বলুন।
সুহান: আমার মূল্যায়নটা সাস্ট-এস ডি কে নিয়েই। অন্যদেরটা অন্যরা করবে।  আমাদের উন্নতির গ্রাফটা উপরের দিকে। খুব প্রতিভাবান ছেলেমেয়ে আসছে। কিন্তু, আমরা সবাইকে নিতে পারছি না। কারণ, কম সময়ে অনেক বেশী সাফল্য এনে দেয়া সত্ত্বেও একটা শীর্ষস্থানীয় ক্লাবের অবকাঠামোগত সুবিধা সাস্ট-এস ডি পায় নি। ট্রফিগুলো একটা কক্ষের অভাবে রাখা যাচ্ছে না, কক্ষ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিচ্ছে। অন্যদিকে, বিতার্কিকরা বিতর্ক করছেন নিজের টিউশনির আয়ের টাকায় কিংবা ক্লাবের কোষাগারের অর্থে। এক্ষেত্রে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি আগেও চেয়েছি, এখনও চাইছি। আমরা সবসময়ই বলে আসছি, ‘সাফল্য-ভিত্তিক সুবিধার’ কথা । বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে আপনার সাফল্যগুলোই সামগ্রিক সাফল্য হচ্ছে ; অথচ, সুবিধা বণ্টনের বেলায় বৈষম্যের শিকার হবেন; এটা কোন আপনার জন্য অনুকূল নীতি হতে পারে না। তবে আমরা আশাবাদী, প্রশাসনের সাহায্য প্রাপ্তির ব্যাপারে। আমরা আমাদের যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছি, কাজেই প্রশাসন তার সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে, এমন আশা নয়, এমন ‘দাবী’ আমরা রাখতেই পারি।

সাস্টনিউজ: সময় দেবার জন্য সাস্টনিউজের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।
সুহান: ধন্যবাদ সাস্ট- নিউজকেও। সাস্ট স্কুল অব ডিবেট (সাস্ট-এস ডি) এবং সাস্ট নিউজের মধ্যকার সুসম্পর্ক আমাদের প্রজন্মের পরও অটুট থাকুক।

Share via email

ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংবাদ

এই সংবাদটি ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ইং, বৃহস্পতিবার ১৪টা ৩১মিনিটে প্রিয় মুখ, সংগঠন, সর্বশেষ, সাস্ট-এস ডি ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের মন্তব্যগুলি স্বয়ঙ্ক্রিয় ভাবে পেতে সাবস্ক্রাইব(RSS) করুন। আপনি নিজে মন্তব্য করতে চাইলে নিচের বক্সে লিখে প্রকাশ করুন।

মন্তব্যসমূহ

120 x 200 [Sitewide - Site Festoon]
প্রধান সম্পাদক: সৈয়দ মুক্তাদির আল সিয়াম, বার্তা সম্পাদক: আকিব হাসান মুন

প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার প্রধান সম্পাদকের। Copyright © 2013-2017, SUSTnews24.com | Hosting sponsored by KDevs.com